সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করার অধিকার রাখতে পারবেন, এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে গতকাল রোববার ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। খবর বিডিনিউজের।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা বিলটি এ অধিবেশনে পাস না করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন এ পদ্ধতি মুসলিম আইনের হেবা নয়। হেবা বা অন্য কোনো আইনে স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতিও এতে বাধাগ্রস্ত হবে না।
আইনমন্ত্রী বিলটি বিবেচনার প্রস্তাব করলে এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে দুটি প্রস্তাবই কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। বিলের দফায় আনা সংশোধনীও নাকচ হওয়ার পর আইনমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে। বিলে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নতুন পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে বাবা–মা তাদের সন্তানকে, দাদা–দাদি বা নানা–নানি নাতি–নাতনিকে এবং বিপরীতক্রমে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী–স্ত্রীর মধ্যেও এভাবে সম্পত্তি দান করা যাবে। সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেটি ভোগ করতে পারবেন। গ্রহীতা দাতার আগে মারা গেলে ওই সম্পত্তির মালিকানা আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে। তবে দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।
আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, বিলের ১২২এ ধারার ৪ উপধারায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, এই পদ্ধতি হেবা বা অন্য কোনো আইনে স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধতাকে সীমিত বা ক্ষুন্ন করবে না।












