চট্টগ্রামের গল্প উদযাপনে ‘সিলন আমার শহর’

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগ নিয়ে চট্টগ্রামে সিলন টি’র বিশেষ আয়োজন

| বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার, জীবনযাপন এবং শহরকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও স্মৃতিকে উদযাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিলন আমার শহর চট্টগ্রাম’ ক্যাম্পেইনের মেগা ইভেন্ট। ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় বন্দরনগরীর চেনা ও অচেনা নানা গল্প।
বাংলাদেশের প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্ব পরিচয় নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, খাবার এবং মানুষের সঙ্গে শহরের এক অনন্য আবেগের সম্পর্ক। দেশের বিভিন্ন শহরের এসব নিজস্ব গল্পকে নতুনভাবে আবিষ্কার এবং সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই সিলন টি শুরু করে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন। এই যাত্রার প্রথম শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয় চট্টগ্রামকে।

ক্যাম্পেইনের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মানুষকে এর সক্রিয় অংশ করে তোলার উদ্যোগ নেয় সিলন টি। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বাজারে আনা হয় বিশেষ নকশার সিলন টি প্যাকেজিং। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও চলে শহরকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন। ‘আমার শহর’ ডিজিটাল কনটেস্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষকে তাদের প্রিয় শহর ঘিরে ব্যক্তিগত স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও গল্প শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত করা হয় সাপ্তাহিক বিজয়ী। তাঁদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের মেগা ইভেন্টে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্টে পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল চট্টগ্রামকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বন্দর ও রেলওয়ের গল্প, শহরের সংস্কৃতি, সংগীত, জীবনযাপন এবং বৈচিত্র্যময় খাবার বিভিন্ন অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় এসব অনুষঙ্গ।
শহরের পরিচিত স্থানের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া বা অনেকের অজানা ঐতিহাসিক গল্পও স্থান পায় আয়োজনে। পুরোনো চট্টগ্রামের চিত্রকর্ম ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের উপস্থাপনা দর্শকদের সামনে তুলে ধরে সময়ের সঙ্গে শহরটির বদলে যাওয়ার গল্প।
চট্টগ্রামের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিকেও বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়। মেজবান থেকে বেলা বিস্কুট, চায়ের আড্ডা থেকে স্থানীয় স্বাদের নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে উঠে আসে চট্টগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির পরিচিত রূপ। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বরা হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও সম্পাদক দৈনিক আজাদী জনাব এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক জনাব আবুল মোমেন, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক হারুন রশিদ। সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের হাতে ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’ তুলে দেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, আবুল খায়ের গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্যাম্পেইনের বিজয়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অতিথির উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

চট্টগ্রাম ছিল ‘সিলন আমার শহর’-এর প্রথম গন্তব্য। মেগা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অধ্যায়ের উদযাপন সম্পন্ন হলেও ‘আমার শহর’-এর যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাংলাদেশের একেকটি শহরের রয়েছে একেকটি নিজস্ব গল্প। চট্টগ্রাম তার গল্প বলেছে। এবার ‘সিলন আমার শহর’-এর পরবর্তী গন্তব্য কোন শহর সেই অপেক্ষা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে মাছ ধরার ট্রলার ডুবে ২ জেলে নিহত, নিখোঁজ ২
পরবর্তী নিবন্ধবিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে ৩ বান্ধবী যাচ্ছিল পার্কে