নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে আবারও আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠানটির বলছে, আয়–ব্যয়ের হিসাব হালনাগাদ ও প্রকাশ ছাড়া এ বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানো যৌক্তিক। তবে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের সম্পদের হিসাব বছরে বছরে প্রকাশ করতে হবে। খবর বিডিনিউজের।
বছর কয়েক ধরে আলোচনার পর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকুরেদের কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। তাতে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা। বিসিএস দিয়ে যারা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তারা এ গ্রেডে বেতন পান।
অপরদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থ্যাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার (নির্ধারিত) থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এ গ্রেডে বেতন পান। সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোরও অনুমোদন দেওয়া হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব কর্মজীবী তাদের আয়–ব্যয় ও সম্পদবিবরণী প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন সুবিধা প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সৎ কর্মচারীদের জন্য এ সুবিধা ন্যায়সংগত হলেও দুর্নীতিবাজদের জন্য তা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। তবে সৎ কর্মচারীদের জন্য এটি ন্যায়সংগত হলেও দুর্নীতিবাজদের জন্য অযৌক্তিক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর দুর্নীতি কমার আশাবাদ থাকলেও বাস্তবে ঘুষ ও অনিয়মের মাত্রা বাড়ে। এবার সেটির পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া, বেতন বাড়ার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে যাতে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না তৈরি হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি।








