সরকারের ই-সেবা পেতে সশরীরে যেতে হয় ৬৮% নারীকে

সিপিডির গবেষণা

| মঙ্গলবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সরকারের অনেক সেবা পুরোপুরি অনলাইনে পাওয়ার নিয়ম থাকলেও ৬৮ শতাংশ নারীকে সশরীরে যেতে হয় বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব সেবা পেতে ঘুষ লেনদেনও করতে হয় বলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এ গবেষণায় উঠে এসেছে। গতকাল

সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে গবেষণার ফল তুলে ধরেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটির গবেষক তামিম আহমেদ। গবেষণায় দেখা যায়, সরকারি ইসেবা পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করতে পেরেছেন ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। বাকিদের মধ্যে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা বেশির ভাগ কাজ অনলাইনে সেরেছেন; পাশাপাশি কিছু ‘পেপারওয়ার্কের’ প্রয়োজন ছিল। খবর বিডিনিউজের।

৩৮ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা শুধু অনলাইনে ফরম দাখিল করেছেন। বাকি কাজ সারতে হয়েছে অফলাইনে। ১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা প্রথমে অনলাইনে ফরম দাখিল করেছেন, পরে তাগাদা দিতে ফের সশরীরে গিয়ে জমা দিয়েছেন। ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী বলেছেন, পুরো কাজটিই অফলাইনে সেরেছেন, যদিও কাজটি অনলাইনে হওয়ার কথা। অর্থাৎ, ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ নারীর কোনো না কোনোভাবে সরকারি অফিসে বা ঘরের বাইরে আসার প্রয়োজন পড়েছে। তামিমের ভাষায়, সরকার থেকে অনেক ধরনের ইসার্ভিস আমরা লিস্টেড করে থাকি। কিন্তু আমরা যখন ফিল্ডে গিয়েছি, আমরা যখন নিজেরা কেস স্টাডি করেছি, আমরা দেখেছি যে, আসলে ইসার্ভিস বলা হলেও ‘ব্যাকএন্ডে’ অনেক ধরনের কাজ করতে হয়, যে কাজগুলো আসলে ডার্কেন। অফিসে যেতেই হচ্ছে তাকে। এ গবেষণার অংশ হিসেবে কেন তাদের অফিসে যেতে হয়, তার ধারণাও নেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী বলেছেন, নথিপত্র সরাসরি জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন পড়েছে, ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী বলছেন নথিপত্র সরাসরি গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজন পড়েছে, ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বলেছেন স্বাক্ষর করার জন্য সরাসরি যেতে হয়েছে, অর্থ জমা দিতে যাওয়ার কথা বলেছেন ২২ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। ৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারী বলেছেন, স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে যেতে হয়েছে, কিছু প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করার প্রয়োজনে যেতে হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ নারীকে। স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তাদের তাগাদা দিতে গিয়েছিলেন ৬ দশমিক ১ শতাংশ নারী। অন্যান্য কারণে ১ শতাংশ নারীর প্রয়োজন হয়েছে। সারাদেশের ১৮৩৫ বয়সী ১ হাজার ৩৮২ জন তরুণের ওপর এ জরিপ করা হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, সেবা সম্পর্কে অনেকে একেবারেই অবগত নন কিংবা আগ্রহী নন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবিতে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গ্রুপ চ্যাটের অভিযোগ