পড়ালেখা হোক আনন্দের

পূর্বা চৌধুরী | শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

স্কুল হল সেই স্থান যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি জীবনের নানা শিক্ষা অর্জন করে। শুধু শিক্ষা গ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নয়। সেখানে যুক্ত হয় শৈশবের মিষ্টিমধুর স্মৃতি, আজীবনের বন্ধুত্ব। বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সেটা আত্মস্থ করা ও জীবনের প্রয়োজনে যথাযথ সময়ে তা প্রয়োগ ও অনুধাবন করতে পারাই হল বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, শিষ্ঠাচার, সামাজিকীকরণ এর বীজ বপন স্কুল থেকেই শুরু হয়। একটা শ্রেণিকক্ষে সমবয়সী শিক্ষার্থী কিংবা নিজের বয়সের চেয়ে বড় ও ছোট শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে সে আচার ব্যবহার আয়ত্ত করতে শিখে। এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে কুঁড়ি থেকে কলি, কলি থেকে পুষ্পে প্রস্ফুটিত করার মাধ্যম হল বিদ্যালয়। একটা অচেনা পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে আলাদা এক জগতের সাথে পরিচিত হতে সহযোগিতা করেন শিক্ষক। এভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অবিচ্ছেদ্য এক সম্পর্ক তৈরী হয়। বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা প্রতিটি শিশু আসে ভিন্ন পরিবারের বিভিন্ন পরিবেশ থেকে। প্রতিটি পরিবারের চিত্র সম্পূর্ণরূপে আলাদা। শিশুদের ব্যক্তিসত্তার অধিকাংশই শেখে পরিবারে আর বাকীটা বিদ্যালয়ে। একজন অভিভাবক তার সন্তানকে যেভাবে উপস্থাপন করবেন সন্তান ঠিক সেভাবেই বিদ্যালয়ে নিজেকে প্রকাশ করবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেহেতু আলাদা সত্তার অধিকারী, তাই একেকজনের ধারণ ক্ষমতা একেক রকম। তাই অভিভাবকদের বিনয়ের সাথে বলছি, আপনার সন্তানকে কখনোই অন্য একজনের সাথে তুলনা করবেন না, আপনার সন্তান যাতে পড়াশুনাকে কখনোই প্রতিযোগিতা হিসেবে না নেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। সন্তান যদি জ্ঞানার্জনটাকে আনন্দ আর শেখার উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করে তবে লেখাপড়াটা তার কাছে বোঝা নয় বরং আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আর শিক্ষার্থীরা একে অন্যের চেয়ে পরীক্ষায় কম বা বেশি নম্বর পেলে তা প্রতিযোগিতার বিযয় না হয়ে সেটা থেকে যদি অনুকরণীয় ও প্রেরণা দেওয়া যায়, তাহলে আপনার সন্তানের মধ্যেও আরো ভালো করার উৎসাহ জাগবে। কারণ প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় সে আপনাকে হয়ত ভালো সার্টিফিকেট এনে দিতে পারবে কিন্তু নৈতিক শিক্ষায় সে আপনাকে মানসিক প্রশান্তি এনে দেবে। যেটা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনার আত্মতৃপ্তির কারণ হবে। তাই ধৈর্য ধরে শিশুদের মানসিক, সামাজিক বিকাশের সুযোগ দিন, অহেতুক প্রতিযোগিতা নয়। প্রতিদিন সন্তানের কোন না কোন ভালো কাজের প্রশংসা করুন। আমাদের মনে রাখতে হবে, সূর্যের আলো বাগানের সব গাছ সমান ভাবে পেলেও সব গাছের ফুল একসাথে ফুটে না। কোনো ফুল সূর্যোদয়ের সাথে,সাথে ফুটে আবার কোন ফুল কয়েকঘণ্টা দেরীতে ফুটে। তাই শিশু, কিশোরদের মেধার বিকাশে আমরা শিক্ষকরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সেইসাথে অভিভাবকদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা সকল শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে সহায়তা করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজ্বালানি সংকটে শিল্পে ধস, বাড়ছে বেকারত্ব
পরবর্তী নিবন্ধ‘সর্বংসহ যাত্রীরা’: পিতাকে ফিরে পাওয়ার এক পুত্রের বয়ান