২৩ মাস পর পুনর্বহাল ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ কমিটি

মহানগর যুবদল । তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মোরশেদ তালুকদার | বুধবার , ২৬ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

মেয়াদোত্তীর্ণ’ হওয়ায় যুবদলের চট্টগ্রাম মহানগর ও অধীনস্ত সকল থানা ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। এর প্রায় পাঁচ মাস পর মহানগরে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ প্রত্যাশী ৩২ জনের সাক্ষাৎকার নেয় কেন্দ্র। এরপর কেটে যায় আরো ১৮ মাস, দীর্ঘ এ সময়ে নতুন নেতৃত্ব পায়নি মহানগর যুবদল। এতে হতাশ হয়ে পড়েন সংগঠনের তৃণমূলের কর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদল থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়– ‘ইতোপূর্বে বিলুপ্তকৃত চট্টগ্রাম মহানগর ও অধীনস্ত সকল থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি পুনর্বহাল করা হলো’। অর্থাৎ গত ২৩ মাসে নতুন কোনো বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে না পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের সেই ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ কমিটি আবারও বহাল করল কেন্দ্র।

দীর্ঘদিন পর কমিটি পুনর্বহালের এই সিদ্ধান্তে সংগঠনের নেতাদের মধ্যে দেখা গেছে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সম্পূর্ণ নতুন কমিটি হলে যারা পদ হারানোর শঙ্কায় ছিলেন, তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, দলের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ করছেন না তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্ষুব্ধ নেতা জানান, ‘বিলুপ্তকৃত কমিটি ২৩ মাস পর পুনর্বহালের মতো নজির অতীতে কখনো ছিল না। মেয়াদোত্তীর্ণ পুরনো কমিটিকে এভাবে ফের দায়িত্ব দেওয়ায় নগর যুবদলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পথ রুদ্ধ হয়ে গেল।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ জুন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয় পাঁচ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর নগর যুবদলের কমিটি। এতে মোশাররফ হোসেন দিপ্তিকে সভাপতি এবং মো. শাহেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৪ অক্টোবর কমিটির আকার বৃদ্ধি করে ২৩১ সদস্যে উন্নীত করা হয়। দুই বছরের জন্য গঠিত ওই কমিটি বিলুপ্ত (২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্ব বিলুপ্ত হয়) হওয়ার আগে ৬ বছর সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে। দায়িত্ব পালনকালে নগরের ১৫ থানা ও ১৭টি ওয়ার্ডে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিলুপ্তকৃত কমিটি পুনর্বহাল বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর, থানা ও ওযার্ড যুবদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ আন্দোলনসংগ্রামে পরীক্ষিত ছিলেন। তাদের আবার পুনর্বহালের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল তারা অপরাজনীতি এবং কোনো ধরনের অন্যায়অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। অপরাজনীতি আমরা বিশ্বাসও করি না। আমাদের ওপর আস্থা রাখায় আমরা প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতিসাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

যুবদল সূত্রে জানা গেছে, বতর্মান কমিটির আগে ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর কাজী বেলালকে সভাপতি ও মোশোরফ হোসেন দিপ্তীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের নগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে কমিটি ঘোষণার সাথে সাথেই চট্টগ্রাম বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরোধিতায় ঐদিন রাতেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা এই কমিটি স্থগিত করতে নির্দেশ দেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এ কমিটি প্রায় ৭ বছর দায়িত্ব পালন করে। এর আগে ১৯৯৬ সালে গঠিত কমিটি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযে পথ দিয়ে যাবে জুলুস
পরবর্তী নিবন্ধগ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক এমপি বদিসহ চারজনকে