সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে পুরনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ১০ জন নিহতের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি ফেরদৌস ওয়াহিদ। নিহত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিতে গতকাল রোববার বিকেলে ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘আমাদের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে ওটার জন্য আমরা ফেরদৌস স্টিল ফ্যামিলি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা অক্লান্ত চেষ্টা করেছি, নিরাপদ পরিবেশে যেন শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারি। আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আমার সাধ্যে যতটুকু পেরেছি আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও করব। ভবিষ্যতে যদি কখনো কিছু প্রয়োজন হয়, আমাদের কাছে আসবেন। আমাদের চেষ্টার কমতি থাকবে না।’ খবর বিডিনিউজের।
আমার শ্রমিকদের কোনো দোষ ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার যে সহকর্মীরা মারা গিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় আমি কারো দোষ খুঁজে পাই না। এটা এমন একটি ঘটনা, গত ৩০–৪০ বছরে শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এর কোনো নজির নেই। এটার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু মাথায় নিয়ে আমরা কাজ করব। আমরা চেষ্টা করব, আরো নিরাপদ কর্মক্ষেত্র কিভাবে তৈরি করা যায়।’
অনুষ্ঠান শেষে ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘এটা তদন্তাধীন। আমরা তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। এই মুহূর্তে কোন উপসংহারে পৌঁছানো সমীচীন বলে আমি মনে করছি না। আপনারা সবাই আমাদের সাথে থাকুন। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা সবকিছু তুলে ধরতে পারব ইনশাল্লাহ।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে ঝুঁকির একটি না। অনেকগুলো ঝুঁকির বিষয় আছে। আগের দুর্ঘটনাগুলো ছিল অন্য রকম। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা হত ইঞ্জিন রুম এবং পাম্প রুমে। এই জাহাজটাতে বিপদের যে জায়গাটা ছিল, সবার আগে সেটা আমরা সরিয়ে ফেলেছিলাম। চেয়েছিলাম ঝুঁকির বিষয়টা ন্যূনতম করে নিয়ে আসব। তারপরও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নতুন একটি বিপদ এসে পড়েছে।’












