নগরের চান্দগাঁও মোহরায় আলোচিত মোহাম্মদ সাকিব (২২) হত্যাকাণ্ডের তিন পরিকল্পনাকারীসহ ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–৭। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও কঙবাজারের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি দেশিয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল এবং ১টি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে পালানোর কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও।
ধৃতরা হচ্ছেন– মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), মো. শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) ও মো. ফয়সাল (২৩)।
এর আগে গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মোহরা কামাল বাজারে ছুরিকাঘাতে খুন হয় বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলে কর্মরত মোহাম্মদ সাকিব। সে চান্দগাঁও চররাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. নজুম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত সাকিবের পিতা বাদী হয়ে ২১ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬–৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার কয়েকদিন আদনান নামে এক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জোর করে ছিনিয়ে নেয় মামলার ১ নম্বর আসামি মো. ইমন। সাকিব এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার করে মূল আদনানকে ফেরত দেন। এতে সাকিবের সঙ্গে ইমন ও তার সহযোগীদের বিরোধ তৈরি হয়।
গতকাল রোববার চান্দগাঁও র্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে র্যাব। এরপ্রেক্ষিতে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার ২ থেকে ৩ দিন আগে আসামি রায়হান ও ইমনকে একটি মোবাইল চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনগণ শালিসি বিচারের সম্মুখীন করে। এর জের ধরে তারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে অন্য আসামিদের সহায়তায় সাকিবকে চাইনিজ কুড়াল এবং সুইচ গিয়ারের মাধ্যমে ছুরিকাঘাত এবং কুপিয়ে জখম করে হত্যা করে।
র্যাব জানায়, ঘটনার হত্যাকারীরা আসমান ও হোসেনের বাইকে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ নষ্ট করে বোয়ালখালীতে ফয়সালের গ্যারেজে যায়। সেখানে চাইনিজ কুড়াল থেকে রক্তের দাগ মুছে তা সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচগিয়ার ছুরিটি ইমন তার সাথে করে নিয়ে তার মামার বাড়ি হাটহাজারীতে লুকিয়ে ফেলে। এরপর রবিউল, রায়হান, ইমন, শাহেদ ও সালমান চট্টগ্রাম ছেড়ে কঙবাজারের চকরিয়া ও ঈদগাঁও থানায় গা–ঢাকা দেয়।
লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম জানান, প্রথমে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে আসমান ও হোসেনকে মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে বোয়ালখালীর ফয়সালের গ্যারেজ থেকে রক্তমাখা চাইনিজ কুড়ালটি উদ্ধারসহ ফয়সালকে আটক করা হয়।
এরপর ফয়সালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া থানায় অভিযান চালিয়ে রায়হান ও রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈদগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ইমন, শাহেদ ও সাকিবকে তাদের নানা বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ইমনকে চট্টগ্রামে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেখানো স্থান হাটহাজারী মামার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচগিয়ার ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।












