১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পেল নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবার

ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা জাহাজভাঙা শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে : জেলা প্রশাসক

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবার ১০ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। গতকাল ইন্ডাস্ট্রি প্রাঙ্গণে ক্ষতিপূরণের চেক ও নগদ অর্থ তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ কাটার আগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের লক্ষ্য জাহাজভাঙা শিল্পকে ‘জিরো ক্যাজুয়ালটি’ বা শূন্য প্রাণহানির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে হবে। একই সঙ্গে এখানে যারা কাজ করেন, তাদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনাটি হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কারণে ঘটেছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাসটি তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে অপসারণের মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ছিল না। স্থানীয় বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের কাছেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ছিল না। বিশেষ করে এলএনজি বা গ্যাসবাহী জাহাজ কেনা ও কাটার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় তদন্তকারীরা শুরুতে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে গ্যাস বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারের জন্য বিএসবিআরএ ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলোকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। শিল্পনীতির বিধান অনুযায়ী দুই লাখ টাকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। রোববার বাকি সাত লাখ টাকার চেক নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ডে বসবাসকারী পাঁচ নিহত শ্রমিকের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচটি পরিবার তাদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই অর্থ পাবে। জেলা প্রশাসন আরো জানায়, দুর্ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বিসহ জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে কাজ করার সময় শ্রমিকেরা বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হন। ঘটনাস্থলে নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুরে চার খুন
পরবর্তী নিবন্ধমোবাইল চুরির অভিযোগে শালিসি বিচারের সম্মুখীন করায় সাকিবকে খুন