সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের তদন্ত দক্ষতা বাড়াতে চট্টগ্রামে দুই দিনব্যাপী ‘রোড ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা গতকাল সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এ কর্মশালার আয়োজন করে জিআরএসপি (গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ)। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির অংশ হিসেবে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও তথ্য–প্রমাণভিত্তিক তদন্ত জরুরি। তিনি বলেন, শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা করা বা দায় নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। দুর্ঘটনা কেন ঘটেছে, সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ত্রুটি, চালকের আচরণ, গতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া। এছাড়া উপ–পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক–দক্ষিণ) মো. লিয়াকত আলী খান, সহকারী পুলিশ কমিশনার, পুলিশ পরিদর্শক, সার্জেন্ট ও উপপরিদর্শকসহ সিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন। মোট ৭৪ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নেন। দুই দিনের কর্মশালায় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত, তথ্য ও আলামত সংগ্রহ, প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং দুর্ঘটনার ধরণ ও প্রকৃতি অনুসন্ধানের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা তদন্তের তথ্য ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মশালা শেষে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া ৭৪ জন অংশগ্রহণকারীর হাতে প্রশিক্ষণের সনদ তুলে দেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বৈজ্ঞানিক ও তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা গেলে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।












