রেললাইনে পানি জমে যাওয়ায় টানা পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে ষোলশহর থেকে একটি শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এর আগে রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সোমবার সকালে বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা দুটি শাটল ট্রেন ষোলশহর স্টেশনে আটকা পড়ে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিট ও ৭টা ৪০ মিনিটে ট্রেন দুটি বটতলী থেকে ছেড়ে আসে। পরে ষোলশহর ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেললাইনে পানি জমে যাওয়ায় ট্রেন দুটি আর ক্যাম্পাসের দিকে এগোতে পারেনি।
শাটল চলাচল বন্ধ থাকায় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট, ১০টা ১৫ মিনিট ও ১১টা ৩০ মিনিটে ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। একই কারণে সকাল ৮টা ৪০ মিনিট, ৯টা ৫ মিনিট ও ১০টা ৩০ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে ষোলশহর এবং বেলা ১টার দিকে বটতলীগামী শাটল চলাচলও ব্যাহত হয়।
সকালে শাটলে করে ক্যাম্পাসে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের শাটলে করে ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। ষোলশহরে আসার পর ট্রেনটি আর চলেনি। পরে জানতে পারি, অঙিজেন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় শাটল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
শাটল বন্ধ থাকায় ষোলশহরে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বাসে করে ক্যাম্পাসে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, একটি শাটল ট্রেন ষোলশহর থেকে সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে এসেছে। আরেকটি পথে আছে, সেটিও চলে আসবে। আশা করছি, এখন শাটল স্বাভাবিকভাবে চলবে। অবশ্যই পরে শাটল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
ষোলশহর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকবার সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। পরে পানি নেমে যাওয়ায় শাটল স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করেছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কিনা, তা নিয়ে সকালে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল–আমীন বলেন, এখন অবধি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিভাগের পক্ষ থেকে উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে ক্লাস–পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবে বিভাগভিত্তিক কোনো পরীক্ষা স্থগিত করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভাগের রয়েছে।












