আঁর মামু কডে, তারে ত আঁত্তুন আদর গরা পরিবু

ছোবল খেয়ে গোখরা নিয়ে হাসপাতালে কথিত সাপুড়ে, অ্যান্টিভেনমে সুস্থ

চকরিয়া প্রতিনিধি | সোমবার , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ফরহাদ নামে কথিত এক সাপুড়েকে ছোবল দেয় বিষধর সাপ গোখরা। বিষে আক্রান্ত হলেও সাপটিকে নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি চলে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গভীর রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হাজির ফরহাদ পলিথিনভর্তি সাপটি নিয়ে ফ্লোরে বসে পড়েন এবং সাপটিকে নিয়ে খেলতে থাকেন। তাকে দেখে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে ফরহাদ সাপটিকে ফের পলিথিনে রাখার সময় আরো একবার তাকে ছোবল দেয়।

পরিস্থিতি বুঝে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্স ফরহাদকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক জানান, সাপে কাটা কথিত সাপুড়ে ফরহাদকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম

প্রয়োগ করা হয়। এরপর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন।

বিষধর সাপের কামড় খেয়েও প্রাণে বেঁচে যাওয়া ফরহাদের বাড়ি উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের হাছিমার কাটা গ্রামে। তিনি ফেরদৌস আহমদের ছেলে।

ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন আজাদীকে বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরপর সাপে কাটা ফরহাদের শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষ্মণ দেখা দেয়। তাই দেরি না করে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তার অবস্থার দ্রুত উন্নতি হতে থাকে। তিনি জানান, সুস্থ হয়ে ওঠার পর ফরহাদ বারবার বলছিলেন, আঁর মামু কডে, তারে ত আঁত্তুন আদর গরা পরিবু।’ আমার মামু (ছোবল মারা গোখরা) কোথায়? তাকে তো আমার আদর করতে হবে।)

কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আকতার আহমদ জানান, ফরহাদ মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। সে সাপুড়ে নয়। এমনকি সাপ ধরার কোনো প্রশিক্ষণও তার নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা
পরবর্তী নিবন্ধএনসিটি-সিসিটি ইজারা দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনার আহ্বান