দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র দাবদাহ এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষিতে। রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে দেশটির উত্তর–পূর্বাঞ্চলের গ্যাংওন প্রদেশে মাঠ থেকে তোলার আগেই মাটির নিচে আলু নরম ও পচে যাচ্ছে। অনেক আলু দেখতে এতটাই নরম হয়ে গেছে যে, কৃষকেরা সেগুলোকে সেদ্ধ আলুর সঙ্গে তুলনা করছেন। খবর বাংলানিউজের।
গ্যাংওনের কৃষকেরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যেসব আলুর খেত স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, এখন সেসব জমিতে ফসল তুলতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে বড় অংশের আলু নষ্ট হয়ে গেছে। উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ইয়াংগু কাউন্টির হেয়ান এলাকার আলুচাষি লি সাং–হিয়ক বলেছেন, ৪০ বছর কৃষিকাজ করেও তিনি এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। স্থানীয় সমপ্রচারমাধ্যম এসবিএসকে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি বা দুটি জমির সমস্যা নয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কীভাবে সেটি ভাষায় প্রকাশ করবেন, সেটিই বুঝতে পারছেন না তিনি। শুধু আলু নয়, তীব্র গরমে গ্যাংওনের কয়েক হাজার পিয়ং জমিতে চাষ করা বাঁধাকপিও নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকেরা ফসল তোলার সময় পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই অতিরিক্ত গরমে জমিতেই বাঁধাকপি পুড়ে ও পচে নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষকদের কয়েক কোটি কোরীয় ওনের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলের ফসলেও বড় ধাক্কা : দাবদাহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগানও। প্রচণ্ড রোদে আপেলের খোসায় ‘সানবার্ন’ দেখা দিয়েছে। সূর্যের দিকে থাকা অংশ পুড়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে অনেক পিচফলও ফেটে যাচ্ছে। আপেলচাষি চন জং–থে বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চুসক উৎসবের সময় বাজারজাত করার উপযোগী হওয়ার কথা যেসব আপেলের, সেগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে গেছে। শুধু সূর্যের দিকে থাকা অংশ লাল হচ্ছে। দাবদাহ আরও চললে সেই অংশও বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিচচাষি পার্ক ওয়ান–সন বলেন, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে কাজ না করার সরকারি পরামর্শ থাকলেও পচে যাওয়া ফসল বাঁচাতে তাদের মাঠে যেতেই হচ্ছে। তার ভাষায়, পিচ পচে যাচ্ছে–এ অবস্থায় ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই।











