২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলে আনোয়ারার ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটিতেও শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেনি। প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের চেয়ে মাদ্রাসাগুলো পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে। এসএসসিতে কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পর পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী হাই স্কুল ও আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভালো ফল করেছে। দাখিলে ভালো ফল করে চমক সৃষ্টি করেছে বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা।
আনোয়ারায় এসএসসিতে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, দাখিলে ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনালে) ৬৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তিন পরীক্ষায় মোট ১৫৮ জন জিপিএ–৫ পেয়েছে। এসএসসিতে উপজেলার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ৬৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৭৯৭ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১১০ জন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলে সবচেয়ে ভালো করেছে কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৬ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৮ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ। পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী হাইস্কুল থেকে ১৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০২ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৩ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ঝিবাশি উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। কৈনপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৫ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
দাখিলে আনোয়ারার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৬০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩৪ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ২৭ জন। এর মধ্যে বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৯ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এছাড়া মোহাম্মদিয়া কুদ্দুছিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসায় পাসের হার ৮২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পশ্চিমচাল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ এবং বরখতিয়ারপাড়া চারপীর আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। তালিকায় সর্বনিম্ন পাসের হার বরুমচড়া গাউছিয়া মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায়। এ প্রতিষ্ঠানের ৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৮ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এসএসসি (ভোকেশনালে) আনোয়ারায় ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩০ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ২১ জন। আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৬ জন। পাসের হার ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৩ জন। ঝি.রা.শি উচ্চবিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ২ জন। তৈলারদ্বীপ বারখাইন এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬ জন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাধব চন্দ্র বসু বলেন, আনোয়ারায় ১৫৮ জন জিপিএ–৫ পেয়েছে, এটা ভালো বিষয়। অনেক স্কুলের ফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হওয়ায় উপজেলার গড় পাসের হার কম হয়েছে। না হলে বেশির ভাগ স্কুল ভালো করেছে।










