চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরায় প্রভাব পড়ছে না। গত দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ৫ টাকা পর্যন্ত। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, বর্তমানে বাজারে পাবনা, রাজবাড়ি, ফরিদ ও কুষ্টিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আসছে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর দোকান গুদামে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুদ আছে। সামনে নতুন পেঁয়াজ উঠলে সরবরাহ আরো বাড়বে। তখন দাম আরো কমার সম্ভবনা রয়েছে।
গতকাল চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৪০–৪২ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে ১৮ টাকা পর্যন্ত বেশি।
পেঁয়াজের আড়তদাররা বলছেন, চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আড়তে ব্যবসায়ীরা কমিশনের ভিত্তিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। আমদানিকারকরা যে দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বলেন, আড়তদাররা সেই দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। আড়তদারদের পক্ষে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের দেশে পেঁয়াজের দরবৃদ্ধির সাথে সাথে প্রশাসনের লোকজন আড়তে অভিযান পরিচালনা করে। এতে অনেক ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এটিও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেছে। দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে প্রবেশ করেছে। এছাড়া সামনে আবার কৃষকের হাতে নতুন পেঁয়াজ আসবে। তাই বাজার পড়তির দিকে। সামনে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন আড়তদার বলেন, খাতুনগঞ্জে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে, সে হিসেবে ক্রেতা নেই। সব ব্যবসায়ীর দোকান গুদাম পেঁয়াজে ভর্তি। তাই দামও কমছে। এ বছর পেঁয়াজের ফলনও ভালো হয়েছে। উল্টো পেঁয়াজ চাষীদের লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। যে পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে দাম বাড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলা যায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন কিছু নয়। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করেন। এখন পাইকারিতে দাম বাড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম কমাচ্ছেন না। অথচ পাইকারিতে দাম বাড়ার সাথে সাথে ওরা দাম বাড়িয়ে দেন। কমলে তারা কম দামে বিক্রি করেন না। তারা তখন বলেন বেশি দামে কেনা এখন কমে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হয়ে যাবে। অথচ পাইকারি দাম বাড়ার সময় তখন কম দামে কেনার বিষয়টি তাদের মনে থাকে না। এটিও এক ধরনের কারসাজি। তখন অন্যায়ভাবে কোনো ব্যবসায়ী যাতে দামবৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনকে বাজার মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে।








