দলবেঁধে বাইক চালানোর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তবে শেষ রক্ষা হলো না। ইয়াবার একটি চালান নিয়ে নগরীতে যাওয়ার সময় পটিয়ায় র্যাব–৭ এর জালে ধরা পড়ে চক্রটি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসদরের ঢাকবাংলোস্থ পটিয়া সরকারি কলেজ গেইট এলাকায় আটক হয় চক্রের ৬ সদস্য। এসময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ৫টি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মোটরসাইকেলের বক্সের ভিতর কাঁধব্যাগে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটককৃত চক্রের ৬ সদস্য হলেন কক্সবাজার জেলার রামু থানার ঘোনার পাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের পুত্র মো. বশির (৩৮), একই জেলার সদর থানার মানুন পাড়া ফরিদ আলমের পুত্র বেলাল উদ্দিন (৩২), ঈদগাঁ থানার মধ্যম নাপিত খালী এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহম্মদের পুত্র নুরুল মোস্তফা (২৭), রামু থানার আমতলীয়া পাড়ার মৃত দীন মোহাম্মদের পুত্র মো. সাইফুল (২৪), রামু থানার পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার মৃত জাফর আহমদের পুত্র মো. হাসান (৩৯) ও একই থানার ঘোনার পাড়া এলাকার মৃত রশিদ আহম্মদ এর পুত্র মো. হোসেন (৩৭)।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম র্যাব–৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, অভিযুক্তদের মোটরসাইকেল তল্লাশি করে মোটরসাইকেলের বক্সের ভিতর কাঁধব্যাগে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে টেকনাফে কোস্টগার্ডের পৃথক দুইটি অভিযানে ৫৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, টেকনাফ থানাধীন নাইট্যংপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার বিকাল ৪টায় কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি মোবাইল ও পাচারকাজে ব্যবহৃত সিএনজিসহ একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত মাদক কারবারির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে টেকনাফ থানাধীন কেরুনতলী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় রাখা প্রায় ৩৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ও আটককৃত মাদক কারবারির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।












