পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ কেটে নাসি বসানোর চেষ্টা

এক্সকেভেটর ও ১৫টি নাসি জব্দ

পেকুয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে নাসি (পানি চলাচলের পাইপ) বসানোর চেষ্টার অভিযোগে একটি এস্ককেভেটর ও ১৫টি নাসি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চলমান কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নূরুল আখতার নিলয়ের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিন দিন ধরে স্কেভেটর দিয়ে বেড়িবাঁধ কেটে প্রায় ১৫টি দুই ফুট ব্যাসের নাসি বসানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ কাজে হারুন মাতবরপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মুহাম্মদ, লালমিয়াপাড়ার মনু এবং শরৎঘোনার জহিরুল ইসলাম জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধে স্থাপন করা নাসির মাধ্যমে লবণ মাঠ ও চিংড়িঘেরে পানি প্রবেশ এবং নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের কাছ থেকে কানি হিসেবে অর্থ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, লবণ মৌসুমে প্রতি কানি লবণ মাঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং চিংড়িঘেরের প্রতি কানি জমি থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, ওই স্থানে আগে থেকেই একটি নাসি ছিল। সেটি পুনঃস্থাপনের জন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) আবেদন করেছেন। পাউবোর মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতেই কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেন।পাউবোসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে নাসি স্থাপনের কোনো বিধান নেই। এ ধরনের কাজের জন্য কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), অনুমোদিত মহাপরিকল্পনা এবং পাউবোর প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বেড়িবাঁধ কাটা বা সেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ আইনসম্মত নয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নূরুল আখতার নিলয় বলেন, বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ফিরলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযান শেষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীর নেতৃত্বে কাটা বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, এতে সম্ভাব্য জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢোকার ঝুঁকি আপাতত কমেছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালার পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন
পরবর্তী নিবন্ধত্রিতরঙ্গের শ্রাবণ সাঁঝের আয়োজন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’