নগরে পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব করতে ধাপে ধাপে প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই–রিকশা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ই–রিকশার উদ্ভাবন করে। এর নকশায় ১৬টি ফিচারে যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং পরিবেশের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, অনিরাপদ ও অবৈজ্ঞানিক ব্যাটারিচালিত রিকশার একটি আধুনিক এবং নিরাপদ বিকল্প হচ্ছে ই–রিকশা।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি পরিবেশবান্ধব ই–রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর ফলে নগরীতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হবে, যানজট কমবে এবং আধুনিক ও নান্দনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এদিকে গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরী রিকশা চালক মালিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে ই–রিকশা চালুর উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় মেয়র শুধুমাত্র নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকরাই ই–রিকশা সুবিধা পাবেন উল্লেখ করে বলেন, যারা এখনো তাদের প্যাডেলচালিত রিকশার নিবন্ধন বা বার্ষিক নবায়ন সম্পন্ন করেননি, তারা দ্রুত তা সম্পন্ন করুন। শুধুমাত্র নিবন্ধনভুক্ত ও নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশা লাইসেন্স জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই পরিবেশবান্ধব ই–রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা হবে। নিবন্ধনবিহীন বা অনিবন্ধিত রিকশা এ সুবিধার আওতায় আসবে না।
ডা. শাহাদাত বলেন, নগরে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার রিকশার লাইসেন্স থাকলেও এর মধ্যে মাত্র প্রায় ২৫ হাজার রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৫ হাজার রিকশার মালিক এখনো নবায়ন করেননি। এই মালিকদের দ্রুত নবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে একদিকে তারা ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ই–রিকশা পাওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্বও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন ই–রিকশা চালু করা নয়, বরং পুরো রিকশা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। নিবন্ধিত রিকশাগুলোর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হলে নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
মেয়র বলেন, আমরা ধীরে ধীরে প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই–রিকশা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং নগরীর পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে। পরিবেশবান্ধব ই–রিকশা চালুর মাধ্যমে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও ধীরে ধীরে বন্ধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে নগরবাসী উন্নত সেবা পাবেন, অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর রিকশা চালক মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ ও মহিলা সম্পাদক সালমা আকতার শিউলি।
জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি রাজধানীর আফতাব নগরে বুয়েট উদ্ভাবিত ই–রিকশার পাইলট কর্মসূচি উদ্ভোধন করা হয়। এসব রিকশায় ৩৮ ভোল্টের পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যা প্রচলিত অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় হালকা এবং দীর্ঘস্থায়ী। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ই–রিকশায় সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রিকশাগুলো জিও–ফেন্সিং প্রযুক্তিতে চলে, ফলে নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা মহাসড়কে রিকশাগুলো প্রবেশ করতে পারবে না।












