গ্যাস সংকটের ধাক্কা পড়েছে বিদ্যুতে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এর ফলে উৎপাদন কমেছে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে। এ কারণে গত ৫–৬ দিন ধরে চট্টগ্রামে লোডশেডিং বেড়েছে। পিডিবি চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল চট্টগ্রামে ১৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় নগর জীবনে এর প্রভাব পড়েছে।
চট্টগ্রামে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন একেবারে শূন্যের কোঠায়। অনেক গুলো বন্ধ রয়েছে।
এই ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পশ্চিম) একেএম মামুনুল বাশরী আজাদীকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমেছে। প্রাইভেট বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে। আজকে (গতকাল) লোডশেডিং কিছুটা বেশি ছিল। ১৫০ মেগাওয়াটের মতো। গত মঙ্গলবার কিছুটা কম ছিল, ৪০ মেগওয়াটের মতো। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোর জন্য গ্যাসের যত চাহিদা তত পাওয়া যাচ্ছে না। এটা সারাদেশেই হচ্ছে।
পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের গত ২৮ জুলাইয়ের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনের তালিকায় দেখা গেছে, ওই দিন সকাল ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩০৬৩ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় উৎপাদন হয়েছে ৩১৯৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১১৩৫ মেগাওয়াট এবং বাঁশখালী কয়লা ভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদন হয়েছে ১১২৫ মেগাওয়াট। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাঁশখালী কয়লা ভিত্তিক এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট–এই দুটি কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ২২৬০ মেগাওয়াট। আর চট্টগ্রামের সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৮০৩ মেগাওয়াট। গত ২৮ জুলাই সকাল ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮৩ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় চাহিদা ছিল ১৪০০ মেগাওয়াট। গতকালও নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৩শ’ মেগাওয়াটের বেশি। পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনের তালিকায় দেখা গেছে, গত ২৮ জুলাই ১১৬ মেগওয়াটের আনলিমা পাওয়ার প্ল্যান্টে সকাল ১১টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২ মেগওয়াট বিদ্যুৎ। আর সন্ধ্যা ৭টায় উৎপাদন হয়েছে ৫২ মেগাওয়াট। আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্টে ওইদিন উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অপরদিকে ৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্ট সারাদিন বন্ধ ছিল। সন্ধ্যায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২ মেগাওয়াট।
এদিকে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটই বন্ধ রয়েছে। ২৬ মেগাওয়াটের আরপিসিএলে সারাদিনে উৎপাদন হয়েছে ১ মেগাওয়াট। পিডিবির শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াটের গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ২১০ থেকে ২১৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। ৫৪ মেগাওয়াটের জুলধা জুডিয়াকে ১৭ মেগাওয়াট, ১০০ মেগাওয়াটের জুলধা–২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৫ মেগাওয়াট, ১০০ মেগাওয়াটের জুলধা–৩ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৫ মেগাওয়াট করে উৎপাদন হয়েছে। তবে বারাকা কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১০৭ এবং বারাকা শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র দিনের বেলায় ৫০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
জানা গেছে, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় পাঁচ দিনে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এই ঘাটতির ধাক্কা পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ২৫ শতাংশ। গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলেও চাহিদার পুরোটা মেটানো যাচ্ছে না।











