জাতিসংঘ ২০২১ সালের ২৫ শে জুলাইকে বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৯,০০০ মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে, প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন এবং ঘন্টায় ২ জনেরও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এদের অধিকাংশের বয়স শূন্য থেকে ২৪ বছর। নদী মাতৃক বাংলাদেশে অসচেতনতার কারণে গ্রামের পুকুরে অনেক শিশু ডুবে মারা যায়।
এছাড়া লেক, হাওর, জলাশয়, নদী ও সাগর সৈকত পর্যটন এলাকায় বহ পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। প্রতিবছর ওয়াটার সেফটি প্রচারণার অভাবে বহু মেধাবী তরুণের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। এই বিপর্যয় পরিবার, সমাজ ও দেশের অপূরণীয় ক্ষতি। একটি পরিবারের সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন মূহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সমাজ ও রাষ্ট্র মেধাবীদের ভবিষ্যৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
পানির দুই ইঞ্চি নিচে মাত্র দুই মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আমেরিকার বিখ্যাত সাঁতারু Fan Cripen পানিতে ডুবে মারা যান। এছাড়া হোম ওয়াটার সেফটি সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্য কোন দুর্ঘটনায় এত দ্রুত নিঃশব্দে মানুষের মৃত্যু হয় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে পৃথিবীতে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে।
২০২১ সালে জাতিসংঘে একটি রেজুলেশন সকল রাষ্ট্রের সম্মতিতে পাস হয়– A/75/273, Global drowning preventin. রেজুলেশন এ পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সদস্য দেশগুলোর সরকারের প্রতি অনেকগুলো নির্দেশনা দেওয়া হয়। Clause (J) তে বলা হয় সদস্য দেশগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কারিকুলামে ওয়াটার সেফটি, সাঁতার ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধে বহুদেশ শিক্ষা কারিকুলামে জাতিসংঘের ঘোষণা অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে নদী মাতৃক ও বঙ্গেপোসাগরের ব–দ্বীপের দেশ বাংলাদেশ, যেদেশে অসংখ্য শিশু, কিশোর ও মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থী প্রতিবছর পানিতে ডুবে মারা যায় সেই দেশের শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই।
লাইফ সেভিং সোসাইটি চট্টগ্রাম, সমাজে শিক্ষিত ও বিভিন্ন পেশার সচেতন নাগরিকদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
আমরা পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করি। এ উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা মূলক সেমিনার, আলোচনা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। পত্রিকায় গোল টেবিল মিটিং ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময়ের করা হয়। যার ফলে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
আমরা পানিতে ডুবে মেধাবী সন্তান হারা পরিবারগুলো চাই রাষ্ট্র যাতে শিক্ষা কারিকুলামে জাতিসংঘের রেজুলেশন অন্তর্ভুক্ত করে। এতে শিক্ষার্থীরা সচেতন হবে, জীবন দক্ষতা বাড়বে, সমাজে সচেতনতা আসবে।
এক তথ্যে দেখা যায় প্রতিবছর দেশে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। মানুষের গড় আয় বৃদ্ধি ও মননশীলতা জন্য পর্যটকের সংখ্যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে পর্যটন ব্যবসার আর্থিক টার্ন ওভার বছরে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তাই যত্রতত্র পর্যটন স্পট গড়ে উঠছে। সচেতনমূলক কোন ওয়াটার সেফটি প্রচারণা থাকে না। যথাযথ সেফটি ও উদ্ধার কারী সরঞ্জাম থাকে না বলে পানিতে দ্রুত মৃত্য ঘটে। আশেপাশে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা কেন্দ্র থাকে না। পর্যটন ব্যবসা বাড়ছে কিন্ত পর্যটকের জরুরি জীবনরক্ষা ও উদ্ধার উপেক্ষিত। পর্যটন ব্যবসায় মানুষের রক্ষায় CSR সিস্টেম চালু করতে হবে। ওয়াটার সেফটি প্রোগ্রামে অংশীদার হয়ে তরুণদের রক্ষায় এগিয়ে আসবেন। ওয়াটার সেফটি প্রচারণা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনা কমবে ও দেশে অন্যান্য সেফটি বিষয়ক সচেতনতাও বাড়বে।
লেখক: প্রকৌশলী।












