দৈনিক আজাদী ও ইঞ্জিনিয়ার খালেক

শৈবাল বড়ুয়া | বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলা স্বরবর্ণের দ্বিতীয় অক্ষর ‘আ’ দিয়েই শুরু চট্টগ্রামের সুপ্রাচীন পত্রিকা ‘আজাদী’ এবং এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ‘আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার’ মহোদয়ের নাম। কাকতালীয়ভাবে এই মিল এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এর চেয়ে আরও বিস্ময়কর হলো আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের জীবনাচরণ এবং ‘আজাদী’ পত্রিকার উত্থান। এর সাথে বর্তমান সময়ে জড়িত আছেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক এবং পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক একজন তড়িৎ প্রকৌশলী হয়ে তিনি তাঁর পেশায় প্রচুর সম্পদশালী হতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মেধা ও মনন তাঁর চিন্তাকে ধাবিত করেছিল গণমাধ্যমের দিগন্তে। তিনি ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক আজাদী। সেসময় তৎকালীন চট্টগ্রামের মতো একটি মফস্বল ছোট্ট শহরে সংবাদপত্র প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার অদম্য মনোবল এবং আগ্রহ সঞ্চার করেছিলেন তা তাঁর সৃজনশীল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে আমাদের ধারণা। তিনি ছিলেন সবক্ষেত্রে মেধাবী এবং সৃজনশীল সফল ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর সময়ে অমাবস্যার অন্ধকারকে দূর করে পূর্ণ চন্দ্রের আলোকে উদ্ভাসিত করেছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মহোদয় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনায় মুদ্রণ শিল্প এবং প্রকাশনার ক্ষেত্রে যখন কেউ এগিয়ে আসছিলেন না সেসময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৯ সালে পুস্তক প্রকাশনা এবং বিক্রয়ের জন্য তৎকালীন আন্দরকিল্লায় ‘কোহিনূর লাইব্রেরী’ প্রতিষ্ঠা করেন বাঙালি সংস্কৃতিবিদ্বেষী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের দমননীতি উপেক্ষা করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রহরে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী রচিত একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ এই কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেসেই গোপনে মুদ্রিত হয়। দৈনিক আজাদীর সাথে আমার প্রথম যোগাযোগ হয় ১৯৬৩ সালে। সেসময় আমি স্কুলছাত্র। টুকটাক লেখালেখি করি। একদিন একটি লেখা নিয়ে কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেসের দোতলায় ছোট পরিসরের একটি কক্ষে পৌঁছুলাম। আজাদীর শিশুপাতার তৎকালীন বিভাগীয় সম্পাদক আবুল কাশেম সন্দ্বীপ আমার লেখাটি পরবর্তী নির্দিষ্ট দিনে ছাপলেন এবং নিয়মিত লেখা দিতে বললেন। এভাবেই আমার লেখার উৎসাহ জাগে। আজ আমি তারুণ্য আর যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যকে বরণ করে নিয়েছি। কিন্তু আজাদী সমৃদ্ধ হয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তায়। আর এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক জনগণ নন্দিত। তাই আমার মনে আজ অনুরণন তোলে আমারই কবিতার কয়েকটি চরণ : আজাদী আমার আগামীদের আসর/ শুদ্ধ চিন্তা জীবনাচারের বাসর। আজাদী আজ হলো অবিনাশী/ আজাদীকে তাইতো ভালোবাসি।

লেখক : শিশুসাহিত্যিক এবং প্রাবন্ধিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআজাদীর জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা
পরবর্তী নিবন্ধশিশুশিক্ষার অগ্রগতি : কয়েকটি প্রস্তাবনা