চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি (নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল), সিসিটি (চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল) এবং বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা প্রদানের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীতে মশাল মিছিল হয়েছে। নগরীর চেরাগীর মোড় থেকে লালদিঘির পাড় পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
চেরাগীর মোড়ে মশাল মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির এএম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, বন্দর মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা নূর হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। এই বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বা অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরের আধুনিকায়নের নামে জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে।
বক্তারা অবিলম্বে এনসিটি, সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানান এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা করেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে।
সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২ আগস্ট সকাল ১১টায় আগ্রাবাদ বাদামতলীর মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বন্দর ও দেশের স্বার্থ রক্ষার এই আন্দোলন সফল করতে সর্বস্তরের শ্রমিক, পেশাজীবী, ছাত্র, যুবসমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জ্বালানো মশাল হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে চেরাগীর মোড় থেকে লালদীঘি পাড় পর্যন্ত মিছিল করেন।











