তারপরও স্বপ্ন দেখি সমৃদ্ধি আর মানবতার

রূপম চক্রবর্ত্তী | রবিবার , ১৯ জুলাই, ২০২৬ at ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

সংবাদপত্র অথবা ফেসবুকে যখন নিষ্পাপ, নিরাপরাধ, মা বাবার আদরের সন্তানদের হত্যার বা ধর্ষণের সংবাদ চোখে পড়ে তখন অপরাধ কর্মে জড়িতদের ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার কাছে জানা থাকেনা। জানিনা কেন কিছু মানুষ দিন দিন পিশাচ হয়ে যাচ্ছেন। কেউ মাদকের টাকা সংগ্রহ করার জন্য আরেকজন মানুষকে হত্যা করছেন। কেউ জায়গাজমি দখল করার জন্য তার আপনজনদের হত্যা করছেন। আবার কেউ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আরেকজন মানুষকে হত্যা করছেন। আবার আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগে যখন কোনো মা অথবা বাবা পরকীয়া প্রেমের নামে তার প্রিয় সন্তানটিকে হত্যা করেন। গত পাঁচ বা ছয় বছর থেকে শিক্ষক নির্যাতনের মতো আরেক ধরনের সামাজিক অবক্ষয় শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগেও একটা ভিডিও দেখলাম যেখানে দেখা গেল এক ছাত্র চেয়ার দিয়ে শিক্ষককে মারার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। ভাগ্য ভালো ছিল শিক্ষক চেয়ারটি হাত দিয়ে ধরে ফেলেছেন। সমাজের কিছু মানুষ কোমলমতি ছাত্রদের আবেগ উস্কে দিয়ে কিভাবে অনেক নিরাপরাধ শিক্ষককে নাজেহাল করেছেন এবং এখনো করার চেষ্টা করছেন তার সঠিক হিসাব খুবই কঠিন। মাদক আর জুয়ার নেশায় অনেক যুবক, ছাত্র এবং বয়স্ক মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছেন। অনেকে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে টাকার জন্য ঘরের মা বাবাকে নির্যাতন করছেন। নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করছেন। সমাজের শৃঙ্খলা যখন ভেঙে যায় সে সমাজ সুন্দরভাবে গোছাতে অনেক সময় লাগে। একটু পেছনে যদি তাকান তখন দেখবেন অনেক মানুষ আরেকজন মানুষের অনুভূতি নিয়ে কত জঘন্যভাবে খেলেছে। এই অনুভূতির আগুনে মানবতা দিনদিন পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। যাদের প্ররোচনা অথবা পরোক্ষ অথবা প্রত্যক্ষ মদদে কোনো নিরাপরাধী মানুষকে নির্যাতন করা হয় সময়ের বিবর্তনে দেখা যায় নির্যাতনকারী মানুষের দল বয়োবৃদ্ধ হয়ে সহায় সম্বলহীন অবস্থায় নির্যাতিত মানুষটির কাছে ক্ষমা চাইতে যায়। অসুস্থ দৃশ্যমান ছবি প্রায় দৃশ্যমান হলেও সুস্থতার স্বপ্ন দেখেই এগিয়ে চলছি। স্বপ্ন দেখি নতুন করে জীবন ধারন করার। এদেশ আমার, আপনার সকলের।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ান
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ