পরিবর্তন মানে জীবনের খেয়ানৌকার হালটা শক্ত করে ধরা

কামরুন নাহার পারভীন | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

জীবনের তৃতীয়াংশকে সাধারণত মধ্যকাল বলেই ধরা হয়। যৌবনের রঙ্গীন স্বপ্নবুনার সময় থেকে পার হয়ে পৌঢ়ত্বের মাঝামাঝি সময়ে অবস্থান; অদ্ভুত এক টানপোড়নে জড়ানো সময়। এটা এমন এক সময়, যখন মানুষ ফেলে আসা জীবনের দিকে কারণে অকারণে ফিরে তাকায় আর ভবিষ্যতের হিসাব কষে।

এই সময়ে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে যে যোজন যোজন দূরত্ব তা খুব স্পষ্টরূপে ধরা দেয়। অনেক নাপাওয়া, কিছু পাওয়া, কিছু আক্ষেপ আর অসংখ্য স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই জীবন এগিয়ে চলে। দায়িত্ব ক্রমশ ভারী হয়ে চাপতে থাকে। প্রত্যাশিত, অপ্রত্যাশিত অনেক দায়ভার চাপে। এই সময়টা শেখায়, সুখ মানে সবকিছু অর্জন করা নয়, বরং যা আছে তার মূল্য বুঝে শান্তি খুঁজে নেওয়া। তাই এই সময়টি নতুন করে নিজেকে জানার, প্রিয়জনদের আরও কাছে টেনে নেওয়ার এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উপভোগ করার এক সুন্দর অধ্যায়। এই সময়টাতে, অভিজ্ঞতা আর জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। পজিটিভিটি দিয়ে এই সময়টা ম্যানেজ করতে না পারলে জীবনের শেষ অধ্যায়টা কঠিন হয়ে ধরা দেয়। জেনারেশন গ্যাপটাও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে নিজের চিন্তা, চেতনা, মননশীলতা খুব সন্তর্পণে পরিবর্তন করতে হয়। এই পরিবর্তন মানে গিভ আপ করা না। এই পরিবর্তন মানে জীবনের খেয়ানৌকার হালটা শক্ত করে ধরে নিরাপদে, নির্ঝঞ্ঝাটে শেষ সীমানা অবধি পৌঁছানো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
পরবর্তী নিবন্ধঅনলাইন প্ল্যাটফর্ম : অর্থনৈতিক মুক্তি নাকি নৈতিক সংকট