নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চন্দ্রনগর বেলতলা এলাকার বাবুলের কলোনিতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কলোনির বিভিন্ন বয়সী অন্তত ৩০ জন সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুইদিনে ১০ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। এছাড়া দুপুরে আবদুল মতিন নামে ৭৫ বয়সী এক বৃদ্ধ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল বিকেলে সরেজমিনে বাবুলের কলোনি ঘুরে দেখা গেছে, সমতল থেকে কিছুটা ওপরে ছোট টিলার ওপর কলোনির অবস্থান। কলোনির আশপাশ নোংরা আবর্জনায় ভর্তি। কলোনিতে বিভিন্ন আকারের এক কক্ষের ৫০–৬০টির মতো ঘর রয়েছে। এসব ঘরে ভাড়া থাকছেন নিম্নবৃত্ত শ্রেণীর লোকজন। ভাড়াটিয়াদের জন্য ওয়াসার পানির সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। ডিপ টিউবওয়েলের পানি রিজার্ভার ট্যাংকে সংরক্ষণ করে সেখান থেকে সরবরাহ করা হয় বাসিন্দাদের। এছাড়া কলোনিতে টয়লেট রয়েছে দুটি। গ্যাসের চুলায় পালা করে রান্না করেন তারা। কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, রিজার্ভার ট্যাংক থেকে সরবরাহ করা পানি থেকে এক সপ্তাহ ধরে দুর্গন্ধ আসছিল। সেই পানি পান করার কারণে তারা বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। এই নিয়ে কেয়ারটেকারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ঘর ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
এদিকে গতকাল দুপুরে ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া আবদুল মতিনের নাতি মোহাম্মদ সেকান্দর দৈনিক আজাদীকে বলেন, তার নানা নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ওনার ছেলে আনোয়ারের ঘরে বেড়াতে আসেন গত বুধবার। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তার ডায়রিয়া ও বমি শুরু হয়। পরবর্তীতে গতকাল দুপুরে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে ওনাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।

গতকাল মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত ৪ বছরের শিশু আফরোজার শুশ্রূষা করছেন তার মা আমেনা বেগম। তিনি জানান, গতকাল সকাল থেকে মেয়ের ডায়রিয়া ও বমি শুরু হয়। অন্যদিকে পাশের বেডে চিকিৎসাধীন ১৪ মাস বয়সী মেহেরাজ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে। ডায়রিয়ার মাত্রা বাড়ায় গতকাল সকালে তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। শিশুটির বাবা ফার্নিচার কর্মচারী কামাল উদ্দিন বলেন, পানিতে জীবাণু থাকার কারণে কলোনির প্রায় সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে মাহী নামের ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল বিকেলে মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ–পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কসহ ১৩–১৪ জনের মতো ভর্তি আছে। এরমধ্যে সবার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। দুপুরের দিকে আবদুল মতিন নামের এক লোককে হাসপাতালে আনার পথে মারা যান। অপরদিকে সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, ৭ মাসের ফারিস্থা আকতারকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তার মা কাজল আকতার। গতকাল সকাল থেকে বমি ও ডায়রিয়ার কারণে তাকে সাউদার্ন মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে ৭ বছরের ইয়াসিনের ডায়রিয়া গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে। গতকাল স্থানীয় চিকিৎসক দেখানোর পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। এছাড়া সাড়ে ৩ বছরের আয়েশা মনির ডায়রিয়া গতকাল সকাল থেকে।

দুপুর থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মা শারমিন আকতার জানান, মেয়ে আগের দিনও সুস্থ ছিল। সবাই বলছে, কলোনির ট্যাংকের পানিতে জীবাণু রয়েছে। সেই পানি থেকে সবার ডায়রিয়া হচ্ছে। অপরদিকে ৭ বছরের সোয়াইব ও তার মা দুজনই ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে। তার মা সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন।
সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তারেক আজিজ দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবারও বাবুলের কলোনি থেকে ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি রয়েছে। তবে সবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, বর্তমানে সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বাবুলের কলোনিতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চমেক হাসপাতাল, ফৌজদাহারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতাল ও আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালেও রোগী ভর্তি আছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, বায়েজিদ চন্দ্রনগর কলোনিতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। আগামীকাল (আজ) আমরা সেখানে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পাঠাবো।












