প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকায় যুক্ত হলো এক নতুন নান্দনিক মাত্রা। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার বিশেষ উদ্যোগে পৌর অডিটোরিয়ামের সামনে এবং কাপ্তাই সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে চোখধাঁধানো এক দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম। ‘আই লাভ রাঙ্গুনিয়া’ সম্বলিত এই দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি পৌর শহরকে এক ভিন্নমাত্রায় সাজিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দিনের চেয়ে রাতে এই নতুন শিল্পকর্মটির সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। ভাস্কর্যটিতে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দুটি ধবধবে সাদা পায়রা এবং পেছনে একটি বড় হৃদয় (হার্ট) আকৃতির অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাতের আঁধারে যখন কৃত্রিম আলোর ঝলকানিতে সাদা পায়রা আর লাল–সাদা আলোর অবয়বটি জ্বলে ওঠে, তখন পুরো এলাকায় এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কাপ্তাই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের নজর কাড়ছে এই নজরকাড়া স্থাপনাটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন গড়ে ওঠা এই নান্দনিক স্থাপনাটিকে ঘিরে স্থানীয় তরুণ–তরুণী এবং দর্শনার্থীদের বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে কিংবা হেঁটে এসে দৃষ্টিনন্দন এই ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি ও সেলফি তুলছেন। স্থানীয়রা বলছেন, পৌরসভার এই চমৎকার উদ্যোগটি রাঙ্গুনিয়া সদর ও পৌর এলাকাকে একটি মার্জিত ও শৈল্পিক রূপ দিয়েছে। রাতে এই আলোকোজ্জ্বল পরিবেশ সত্যিই মন কেড়ে নেওয়ার মতো। পৌরসভার এই নান্দনিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ।
এই নান্দনিক কাজের কারিগরি ও নকশা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার পৌর প্রকৌশলী মো. জমির উদ্দিন বলেন, আমরা চেয়েছিলাম রাঙ্গুনিয়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক রূপ দিতে। কাপ্তাই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক, যা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পৌর অডিটোরিয়ামের সামনের এই খালি জায়গাটিকে কাজে লাগিয়ে আমরা রাঙ্গুনিয়াবাসীর আবেগ ও শান্তির প্রতীক হিসেবে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছি। দুটি পায়রা যেমন শান্তির বার্তা দেয়, তেমনই ‘আই লাভ রাঙ্গুনিয়া‘ লেখাটি রাঙ্গুনিয়ার প্রতি আমাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এর নির্মাণশৈলী ও আলোর ব্যবহারে আধুনিকতা ফুটিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এবং টেকসই উপকরণ ব্যবহার করে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়াকে নান্দনিকভাবে সাজানোর এই বিশেষ প্রয়াস নিয়ে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পৌরসভাকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই দৃষ্টিনন্দন ‘আই লাভ রাঙ্গুনিয়া’ ভাস্কর্যটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি রাঙ্গুনিয়াবাসীর আত্মপরিচয় ও ভালোবাসার প্রতীক। শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা এবং হৃদয়ের মেলবন্ধনের মাধ্যমে আমরা রাঙ্গুনিয়াবাসীর মাঝে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। এই চমৎকার কাজের মাধ্যমে পুরো এলাকার রূপ বদলে গেছে। কাপ্তাই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ তো বটেই, স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দিত। আশা করি, রাঙ্গুনিয়ার সৌন্দর্য বর্ধনে আমাদের এই ধরনের নান্দনিক প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।












