বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় কাজ করার সময় বিস্ফোরণে দগ্ধ ১১ শ্রমিকের মধ্যে ২ জন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে মারা গেছেন। আইসিইউ ও বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই শ্রমিক হলেন, পটিয়ার হুলাইন এলাকার ইয়াসিন আউলিয়ার মাজার বাড়ির মোহাম্মদ আলম ও বোয়ালখালীর বদন আলীর বাড়ির দিদারুল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদন্ডীতে অবস্থিত কনফিডেন্স সল্ট কারখানায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় দগ্ধ ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউ, বার্ন ইউনিট ও অন্যান্য ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে এদের মধ্যে রাতে দুইজন মারা গেছেন বলে জানান চমেক ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ–পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন মজুমদার।
আগুনে দগ্ধ হওয়া ১০ জনের মধ্যে শরীরের বেশির ভাগ পুড়ে গেছে, এমন ৫ জনকে আইসিইউতে এবং তিনজনকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল।
দগ্ধরা হলেন–বোয়ালখালীর দিদারুল আলম (৩২), মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮) ও নূর নবী (২৫), রাঙ্গুনিয়ার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), সদরঘাটের মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের জাহিদুল আলম (৪২), পটিয়ার মোহাম্মদ আলম (৪৫), মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের সেলিম উদ্দিন (৩০) ও আহসানুল হক (৪৫)। এদের মধ্যে গতকাল চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিদারুল আলম ও নুরুল আলম মারা গেছেন।

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ এবং বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এবং নুরুল আলমের শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এছা্ড়াও মাহমুদুল হকের ৬০, উজ্জ্বলের ৫০, নূর নবীর ৪৫, লিটনের ৪০, জাহিদুলের ৩৫, সেলিমের ২০ শতাংশ এবং জাহিদ ও সিরাজুলের ১০ শতাংশ করে পুড়েছে। দগ্ধ দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন বলে চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারজানা জানান, আহসানুল হক (৪৫) নামের এক শ্রমিককে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত শ্রমিকরা বলেন, হঠাৎ করে বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
পুলিশ জানায়, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র বিকল ছিল। সেগুলো মেরামত করতে ৫টি ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে দুটি এসির বিস্ফোরণ ঘটে।
জানা গেছে, বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুনে দগ্ধ হওয়া ১০ জনের মধ্যে ৫ জন কারখানাটির শ্রমিক এবং বাকি ৫ জন ঠিকাদারের নিয়োগ করা শ্রমিক হিসেবে মেরামত কাজ করতে এসেছিলেন।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আজাহার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলার তথ্য দেওয়ায় আমরা ফিরে এসেছি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানান, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল। সেগুলো মেরামত করতে ৫টি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। এ কারণে ভোল্টেজ আপ–ডাউনের এক পর্যায়ে সেখানে আগুন লেগে যায়। এতে সেখানে থাকা দুটি এসির বিস্ফোরণ ঘটে। আর এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে সেখানে যারা ছিল, তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, কারখানার দগ্ধ শ্রমিকদের কয়েকজনের বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে পরিবারের সদস্যদের কাউকে পাইনি। তারা সবাই হাসপাতালে বলে জেনেছি। পরবর্তীতে কেউ মামলা করলে বা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের এজিএম বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে ও তাকে পাওয়া যায়নি।












