নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর জনসাধারণের জন্য ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার তিন ইউনিয়নে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে ভোর থেকেই এ কর্মসূচি শুরু হয়। হরতালের সমর্থনে আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে উত্তর ফটিকছড়ির বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ঢাকা–চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি এবং ঢাকা–ফেনী–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের হেয়াকো ও বালুটিলা বাজার এলাকায় পিকেটিং ও ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে হেয়াকো–ফটিকছড়ি–চট্টগ্রাম সড়কসহ প্রধান আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ৮ জুলাই সরকারি গেজেটের মাধ্যমে দাঁতমারা, বাগানবাজার, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল–এই ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা’ ঘোষণা করা হয় এবং এর সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয় পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়।
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ব্যাংকার হাসান শামসুদ্দিন এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা নতুন উপজেলা গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। কিন্তু বর্তমান নির্ধারিত স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের দূরবর্তী ইউনিয়নগুলোর সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন। সাধারণ মানুষকে মাত্র একটি প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। এটি প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী ও বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।’
এর আগে গত ১০ জুলাই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৭ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হলেও প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই হরতালের ডাক দেওয়া হয়। গণ অধিকার পরিষদের নেতা রবিউল হাসান তানজিম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হলে পুলিশ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে, ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজারে হরতালের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা ও শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বিকেলে ভূজপুর থানার কাজিরহাট বাজারে সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিকেলে কাজিরহাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি এবং নারায়ণহাটের আংশিক এলাকার সাধারণ মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবসমাজ। মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো প্রদক্ষিণ করে পরে বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও জনজীবন বিপর্যস্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।










