চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দর নগরী। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, সমতল সমৃদ্ধ এ নগরীর খালগুলো পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে নগরবাসীকে বন্যার দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ দেয়া হবে।
তিনি গতকাল বুধবার নগরের হালিশহর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড গলিচিপা পাড়া এলাকায় ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে এসব কথা বলেন। ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল ভরাট ও পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতা তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল পুনঃখননে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজন হলে এ খাতে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকেও বরাদ্দ দেওয়া হবে। এসময় যারা অবৈধভাবে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে তাদের দ্রুত তা অপসারণের আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন।
আসাদুল হাবিব দুলু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারের জন্য ওএমএস কার্যক্রম চালু এবং যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্নির্মাণেও সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক চট্টগ্রামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো দুর্গত মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, টানা ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত নগরবাসীর পাশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রথম থেকেই কাজ করছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশন, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, রান্না করা খাবার ও ত্রাণ বিতরণসহ জরুরি সেবা অব্যাহত রয়েছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সব সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। মানুষের দুর্দশা লাঘবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মেয়র বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নগরীর ৪০টি খালের উন্নয়ন, পুনঃখনন, সংস্কার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) প্রস্তুত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খালগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তিনি বলেন, খাল ও নালার স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন সব অবৈধ স্থাপনা, দখল এবং বর্জ্য অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, চট্টগ্রাম–১০ আসনের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উন্নয়নে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখানে প্রয়োজনের তুলনায় ভালো স্কুল–কলেজ নেই, আধুনিক হাসপাতালের অভাব রয়েছে, ওয়াসার সুপেয় পানির সুবিধাও এখনো সবার দোরগোড়ায় পৌঁছেনি। এসব সংকট নিরসনে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নির্বাচনের পরও সেই অঙ্গীকার থেকেই জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। ভোটের আগে ও পরের কথার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য রাখিনি। আমার বাবা মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমান সারাজীবন মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর আদর্শকে ধারণ করেই আমিও মানুষের পাশে থেকে তাদের সুখ দুঃখের সঙ্গী হতে চাই। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান উন্নয়ন এবং সেবার মাধ্যমে দিতে চাই।
সাঈদ আল নোমান বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে কিশোর গ্যাং, মাদক এবং সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও আশার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ এবং দোয়া একান্তভাবে কামনা করছি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের দেওয়া ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছি বলে মনে করব।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ আরও গতিশীল করা হবে। খাল, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা একটি বহু বছরের সমস্যা হলেও পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এজন্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, ওয়াসা এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।











