হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার : তথ্য উপদেষ্টা

| বুধবার , ১৫ জুলাই, ২০২৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মাধ্যমে জাস্টিস বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে তার বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এ দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক। একইসঙ্গে তার প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার রাজনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক কোনো চাপের বিষয় নিয়ে ভাবছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে শেখ হাসিনার বিচারের লক্ষ্যে তাকে প্রত্যর্পণ করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হয়েছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ আমরা এই রাষ্ট্রে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। খবর বাসসের।

উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইসিটি আইনকে অত্যন্ত আধুনিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিদেশি আইনজীবী এনে নিজেকে ডিফেন্ড করার সুযোগ পাবেন। এই আইসিটি আদালতে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও বিচার প্রক্রিয়া ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগও রাখা হয়েছে। একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে। তবে আদালতে শেখ হাসিনা যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি অপরাধী নন, সেক্ষেত্রে আদালত অন্য কোনো শাস্তিও দিতে পারে। সেজন্যই বলছি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা একজন মানুষকেও সরকার জাস্টিস দিতে চায়। জাস্টিস মূলত এভাবেই নিশ্চিত করতে হয়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা কোনো নির্বাহী আদেশ বা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। এটি সরাসরি আদালতের নির্দেশনা। রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা এঙিকিউটিভ বডি হিসেবে সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের এই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা। কোনো রাজনৈতিক দল বা গণমাধ্যমকর্মী যদি মনে করেন এই আদেশে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তবে তারা আদালতে গিয়ে এটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালত তুলে নিলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে, কিন্তু যতক্ষণ নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে, সবাইকে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলতে হবে।

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করেছে যে, তারা সংসদে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে উচ্চকক্ষ গঠনসহ সনদের কিছু বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ছিল, যা তারা আগেই জনগণকে জানিয়ে নির্বাচনের ম্যান্ডেট নিয়েছে।

বিরোধী দল বা জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংশোধনের গণভোটের বিতর্কে না জড়িয়ে বিরোধী দলের উচিত এই সংলাপে ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়া। আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা। পার্লামেন্টে জনগণের সামনে তাদের যুক্তি তুলে ধরা। নির্বাচনী ব্যবস্থা বা গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করে।

উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে যা হচ্ছে তা বন্যা নয়, মূলত দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। আগের সরকার চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও তার একটি ছোট ভগ্নাংশ মাত্র কার্যকর হয়েছে, যা মূলত দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফসল। বর্তমান সরকার এই কাঠামোগত সংকট নিরসনে নতুন করে কাজ শুরু করেছে।

অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত ত্রাণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন, প্রতিষেধক ওষুধ ও খাবার স্যালাইন মজুদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কঙবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই ৭টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে ৫৯টি উপজেলার ৩ শত ৪৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, দেশে খাদ্যশস্যের কোনো সংকট নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছেন। ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থেকে ক্ষয়ক্ষতির তদারকি করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবান্দরবানে সব পর্যটন স্পট খুলছে কাল
পরবর্তী নিবন্ধহাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু