চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মূল ভবনের নিচতলায় স্থাপিত কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী নভেম্বরে। চুক্তির মেয়াদ ঘনিয়ে আসায় সরকারি ভর্তুকি সুবিধায় মাত্র ৬২১ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়া ২৫৩ জন গরিব রোগী ও স্বজনেরা উৎকণ্ঠায় আছেন। সেন্টারটি বন্ধ হয়ে গেলে কিডনি ডায়ালাইসিসের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন দরিদ্র ও বিভিন্ন শ্রেণীর রোগীরা। ইতোমধ্যে স্যান্ডরের সাথে সরকারের চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়ে আসার বিষয় এবং সিদ্ধান্ত জানাতে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সচিব বরাবরে চিঠি দিয়েছে।
জানা গেছে, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চমেক হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিসে দুটি সেন্টার স্থাপন করে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড। এর মধ্যে ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চমেক হাসপাতালে ৩১টি মেশিনে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৯ নভেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের শুরুতে ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রম চালু করে। বর্তমানে গরিব রোগীদের জন্য ডাইলাইসিসে রেফার্ড সেশন ফি নেওয়া হচ্ছে ৬২১ টাকা। বেসরকারিভাবে প্রতি ডাইলাইসিসে সেশন ফি নেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সিঙ্গেল ডায়ালাইজার ফি নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ টাকা। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধা ও অতি দরিদ্র কিছু রোগী ফ্রিতে এই সুবিধা পেয়ে থাকেন। সারা বছরে ৬৫০ জনকে ফ্রি সুবিধা প্রদানের সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। একজন রোগীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৮টি সেশন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ মে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, আগামী ২৯ নভেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ পূর্ণ হবে। চুক্তির শর্তমতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়ে যাবে।
গতকাল দুপুরে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বেডে ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। অপেক্ষমাণ রুমে বসে আছেন রোগীর স্বজনেরা। ডায়ালাইসিস সেবার মধ্যে গরিব, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।
ফটিকছড়ি থেকে ডায়ালাইসিস সেবা নিতে এসেছেন আবদুর রহমান। তার ছেলে আসিফুর রহমান আজাদীকে বলেন, দেড় বছর ধরে আমার বাবা স্যান্ডর থেকে ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ। সরকারের সহায়তায় নামমাত্র মূল্যে সেবা নিচ্ছি। শুনেছি আগামী নভেম্বর মাসে এই প্রকল্পের মেয়াদ হচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যাতে শিগগিরই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। এখানে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে গেলে অনেক গরিব রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। কারণ কিডনি চিকিৎসা ব্যয়বহুল।
একই কথা বলেছেন পটিয়ার বাসিন্দা আসমা আকতার। তিনি জানান, আমার মা ৪ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। এক বছর ধরে তার ডাইলাইসিস করতে হচ্ছে। সরকারের প্রতি একটাই অনুরোধ জানাব, এই সেন্টারটি যেন সব সময় চালু থাকে।
স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার তায়েফ রহমান আজাদীকে বলেন, সরকারের সাথে আমাদের মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হচ্ছে। আমরা চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন আজাদীকে বলেন, চমেক হাসপাতালে পিপিপির আওতায় স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছে দরিদ্র ও বিভিন্ন শ্রেণীর কিডনি রোগীরা। প্রতিষ্ঠানটির সাথে আগামী নভেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি।











