নৈঃশব্দ্যেরও একটি দরজা থাকে, কেউ দেখে না তা নিরন্তর খোলা,
প্রেম এসেছিল – শিশিরের মতো, ঘাসও শোনেনি তার পদধ্বনি।
জানালার কাচে তখন সকালের আলো অনুবাদ করছিল আকাশ,
আমরা ভেবেছিলাম, সৌন্দর্য চিরকাল একই রকম থাকে।
তারপর ঋতুরা একে একে বদলে দিল আয়নার ভাষা,
হাতের রেখায় জমল অনন্ত বিদায়ের সূক্ষ্ম ধুলো,
বৃক্ষের ছায়াও একদিন নিজের শেকড় ভুলে যায়,
নদী শেখায় – ধরে রাখার চেয়ে বয়ে যাওয়াই সত্য।
মানুষ আসলে স্মৃতির ইট দিয়ে ক্ষণস্থায়ী ঘর তোলে,
সময় নীরবে এসে প্রতিটি ইটের নাম মুছে দেয়,
তবু একটি স্পর্শ বহুযুগের চেয়ে দীর্ঘজীবী হয়,
একটি দৃষ্টি মৃত্যুকেও কখনো নিরুত্তর করে রাখে।
যা ভেঙে যায়, তার মধ্যেই অমলিন প্রতিধ্বনি জন্ম নেয়,
যা হারিয়ে যায়, তাই সবচেয়ে গভীর আলো হয়ে জ্বলে,
প্রেম কোনো গন্তব্য নয় – এক অনিঃশেষ অন্তর্যাত্রা,
নৈঃশব্দের ওপারেও যার পদধ্বনি শুনতে পায় জেগে থাকা হৃদয়।







