কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, সাঙ্গু, ডলুনদী, হাঙর ও হাতিয়ার খাল দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ায় অধিকাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। সেখানেও পানিবন্দি হয়ে আছে কয়েক হাজার পরিবার। এদিকে পটিয়া উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে গ্রামীণ সড়ক, সবজি ক্ষেত ও মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখানে ৩৬ বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।
আমাদের সাতকানিয়া প্রতিনিধি জানান, কেরানীহাট–বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান ও দস্তিদার হাটের পূর্ব পাশে সড়কের উপর দিয়ে দেড় থেকে দুই ফুট উচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট–গুনগরি সড়কের বিভিন্ন স্থানসহ বন্যা কবলিত এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক বসত ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সাতকানিয়া আদালত, পৌরসভা ও সাতকানিয়া সরকারি কলেজে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার কেঁওচিয়া, ছদাহা, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, নলুয়া, ঢেমশা, আমিলাইষ, চরতি, এওচিয়া, সোনাকানিয়া, পশ্চিম ঢেমশা, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অনেক বসত ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় খাবার তৈরি ও পরিবার পরিজন নিয়ে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে।
লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, লোহাগাড়ায় ডলু নদীর সেতুর সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম–কঙবাজার মহাসড়কে উপজেলার আধুনগর এলাকায় সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কে এ ফাটল দেখা দেয়। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। তাদের আশঙ্কা বৃষ্টির তীব্রতা অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ধসে পড়ে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলে ডলু নদীর পানির প্রবাহ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র স্রোতের প্রভাবে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কের একটি অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফাটলের কারণে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
চন্দনাইশ প্রতিনিধি জানান, টানা বর্ষনে চন্দনাইশের নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে শঙ্খনদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে উপজেলার বিভিন্ন অংশে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের সমস্ত গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানির নিচে ডুবে রয়েছে। নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়ন, দোহাজারী পৌরসভা, বরমা, বৈলতলী অংশের বেশ কয়েকটি স্পটে তীব্র গতিতে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে শত শত হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ৫০টির অধিক মৎস্য প্রজেক্ট ও পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে।
পটিয়া প্রতিনিধি জানান, পটিয়া উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে গ্রামীণ সড়ক, সবজি ক্ষেত ও মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও পানি নেমে গেলে এ ক্ষতির পরিমাণগুলো নিরুপণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পটিয়া পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কমিটির জরুরী সভায় বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ৩৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। যদি পরিস্থিতির অবনতি হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।










