শিল্প, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। যারা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবসা করবেন তাদের সরকার প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন। বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। তবে বর্তমানে সেই অবস্থান সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর অবস্থান ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। ইনশাল্লাহ আমরা আবারও এক নম্বর পজিশনে দ্রুত ফিরিয়ে আনব। গতকাল সোমবার সীতাকুণ্ডে উপজেলায় অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল মিলস্ লিঃ, পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং গ্রিন ইয়ার্ড, এসএম গ্রিন ইয়ার্ড, আরব গ্রিন ইয়ার্ডগুলো পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। এই ব্যাপারটা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। এটা সমাধান করা এত সহজ নয়। দেশে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জরুরি কর্মসূচির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। আর আইন শৃঙ্খলার কোনো ব্যাপার যদি থেকে থাকে সেগুলো সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। মন্ত্রী বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেন। তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা সমাধানের ও কাজ চলছে। আজ থেকে গত দুই বছর আগেও আমরা প্রায় ৪০ অথবা ৪৫% এর মত সারাবিশ্বে যেসব জাহাজ রি–সাইক্লিং হত তার প্রায় অর্ধেক আমরা নিজেরাই রি–সাইক্লিং করেছি। কিন্তু আমাদের এই অবস্থান সাময়িককালের জন্য কিছুটা আমরা বিচ্যুত হয়েছি। একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে শ্রমিক শোষণ, পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গর্বের বিষয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর, জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বিএসবিআরএ নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মহসিন চৌধুরী, শিল্পপতি শওকত আলী চৌধুরী, কামাল উদ্দিন আহমেদ, লিয়াকত আলী চৌধুরী, মাস্টার আবুল কাসেম, নাঈম আহমেদ, জহিরুল ইসলাম রিংকু, মোহাম্মদ শামসুল আলম, সেকান্দার হোসেন টিংকু, এস এম নুরুন নবী, নুর উদ্দিন রুবেল, তসলিম উদ্দিন, হোসাইন আরেফিনসহ বিভিন্ন শিপব্রেকার্সগণ উপস্থিত ছিলেন। শেষে মন্ত্রী দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ব গাড়ি সংযোজন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ করেন। এসময় তিনি কারখানা ঘুরে দেখেন। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক, প্রগতির এমডি আবু সায়েম, প্রসাশন কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, কারখানা প্রধান নুরুল আবছার, প্রগতির সিবিএ সভাপতি নাসির উদ্দিন, সেক্রেটারি মো. গোলাম সাদেকসহ প্রগতির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।












