নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে সাতটি ভবনের মালিককে ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ ও নকশা বহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) শুরু করা সাঁড়াশি অভিযানে গতকাল চারটি ভবন সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিনটি ভবনের মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিডিএ’র স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গতকাল মোট ১৫টি ভবনের নকশা পরীক্ষা এবং যাচাই বাছাই করা হয়। অভিযানের শুরুতে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করা হয়। সেখানে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক (প্লটের সীমানা থেকে নির্ধারিত খালি স্থান) না রাখা, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি এবং নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে চারটি ভবনকে মোট ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি একটি ভবন সিলগালা করা হয়। এই সময় কল্পলোক আবাসিকে ফুটপাত দখল করে নির্মিত বেশ কিছু দোকান নিজ উদ্যোগে অপসারণ করতে দেখা যায়। পরে কে বি আমান আলী রোড এলাকায় সেটব্যাক না রেখে এবং সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে এক ভবন মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিনে মোহরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণের অভিযোগে একটি ভবন সিলগালা করা হয়। এ ছাড়া নকশাবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগে দুই ভবন মালিককে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় অবস্থিত ক্যাফে আল মক্কা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ভবনে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, ভবনটি সিডিএর অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে ভবনটি সিলগালা করা হয়। একই অভিযানে নকশা–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে ১৪ তলা কাজী টুইন টাওয়ার ভবনের মালিকপক্ষ অনুমোদিত নকশা উপস্থাপন করতে না পারায় ভবনটিও সিলগালা করা হয়।
এ বিষয়ে সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি এই নগরীকে পরিকল্পিত, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলাম। নগরীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নকশাবহির্ভূত বা অবৈধ ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি ভবন মালিকদের স্বেচ্ছায় অবৈধ অংশ অপসারণের আহবান জানান এবং বলেন, অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনের দিনগুলোতেও এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিডিএর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২–এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। সিডিএর অথরাইজড অফিসার–২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদ এবং সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকেরা উপস্থিত ছিলেন।










