মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বর্তমানে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই, তবে পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অপরাধ করে অন্য দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। খবর বাংলানিউজের।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন– এ বিষয়ে বাংলাদেশ ১০টি দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ চলছে। শামা ওবায়েদ বলেন, এটি রাতারাতি সম্পন্ন হওয়ার মতো বিষয় নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি ও চলমান আলোচনার মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামপ্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ইতিবাচক ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।
চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডোর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় দেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে যেমন আমাদের সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।











