ফরেস্ট গেট এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে যুবককে গুলি করে হত্যা

ঘাতক পলাতক, হাসপাতালে নেওয়া সঙ্গী পুলিশ হেফাজতে পুলিশ বলছে তারা তিন জন ইয়াবা সেবন করছিলেন

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুরের ফরেস্ট গেইট এলাকায় এক যুবককে গুলি করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। তার মো. আজাদ (২৫)। এ ঘটনায় ইসহাক নামে একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গতকাল বিকালে পরিত্যক্ত একটি বাড়ির ভেতরে আজাদকে গুলি করার ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, আজাদ, ইসহাক ও হৃদয় নামে তিন যুবক ঘটনাস্থল তথা পরিত্যক্ত একটি বাড়ির ভেতরে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে হৃদয় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বের করে তিনি আজাদকে লক্ষ করে গুলি করেন। এতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

হৃদয়কে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে জানিয়ে পুলিশের সূত্র আরো জানায়, ইসহাককে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার কাছে প্রাপ্ত তথ্যসহ গোয়েন্দা তথ্যসহ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হৃদয়কে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আশা করা যাচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়বেন।

তবে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আজাদকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াদের মধ্যে ইসহাকও ছিলেন। তিনি হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের জানিয়েছেন, মো. আজাদ ফরেস্ট গেইট এলাকার রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ পেছন থেকে তাকে গুলি করেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। এতে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওযা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মো. আজাদের শরীরের ডান পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে চমেক পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, আজাদকে যিনি নিয়ে এসেছিলেন, তার দেওয়া তথ্যমতেফরেস্ট গেট এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি ভিকটিমকে গুলি করেন। পরে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত মো. আজাদকে কেন গুলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে নানা জন নানা রকম তথ্য উপাত্ত সামনে নিয়ে আসলেও সেগুলোর বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেছেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কী কারণে গুলি করেছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা একজনকে হেফাজতে নিয়েছি। তার নাম ইসহাক। আজাদ, ইসহাক ও হৃদয় নামে অপর একজন মিলে পরিত্যক্ষ একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানেই হৃদয় নামে ওই যুবক আজাদকে গুলি করেছেন, এখন পর্যন্ত এ তথ্য পাওয়া গেছে। হৃদয়কে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে জানিয়ে ওসি বলেন, এখনো বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। গুলিবর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারের পরই পুরো বিষয়ে খোলাসা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে তিনি বলেন, ভিকটিম মো. আজাদ পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) আরিফ হোসেন আজাদীকে বলেন, রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গুলি করা হয়েছেতথ্যটি সঠিক নয়। মূলত ভিকটিম ও গুলিবর্ষণকারীসহ কয়েকজন পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। কেন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসমাপ্ত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা
পরবর্তী নিবন্ধমাতামুহুরীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি