ইউরোপের ইতালি ও বলকান অঞ্চলে রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহের কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই চরম আবহাওয়ায় পুরো মহাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
অন্যদিকে আটলান্টিকের অপর পারে ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক আগের দিনগুলোতে দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় বিপজ্জনক দাবদাহের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর। মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দিনের বেলা অতিরিক্ত গরম এবং রাতে তাপমাত্রা না কমার কারণে গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং পর্যাপ্ত শীতলীকরণের ব্যবস্থা না থাকা মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। এদিকে পশ্চিম ইউরোপে জুনের রেকর্ড তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আগামী সপ্তাহে সেখানে গরম আবার বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার দেশের উত্তরের বোলজানো থেকে শুরু করে দক্ষিণের দ্বীপ সিসিলির পালেরমো পর্যন্ত ২২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রোম শহরের সরকারি ছুটির দিন সেইন্ট পিটার ও পল উৎসব উপলক্ষে ভ্যাটিকানে সমবেত পুণ্যার্থীরা পোপ লিওর অ্যাঞ্জেলাস বার্তা শোনার সময় তীব্র গরম থেকে বাঁচতে হাতপাখা ও ছাতা ব্যবহার করেন। পশ্চিম বলকান অঞ্চলেও দাবানল পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর সোমবার রাজধানী জাগরেব এবং পর্যটন নগরী স্প্লিট ও দুব্রোভনিকসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। স্প্লিট থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ভিস দ্বীপে পাইন বনের দাবানল নিয়ন্ত্রণে ৪টি উড়োজাহাজ ব্যবহার করছেন দমকলকর্মীরা।
প্রতিবেশী সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় হাইড্রোমেটিওরোলজিক্যাল সার্ভিস (আরএইচএমজেড) সোমবার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সতর্কতা দিয়েছে।
এছাড়া আলবেনিয়ার ক্লোস গ্রামের কাছে সপ্তাহান্তে ঝোপঝাড় ও জলপাই বাগান গ্রাস করা ১টি দাবানল নিয়ন্ত্রণে এনেছেন দমকলকর্মীরা। ২০ জুন শুরু হওয়া এই দাবদাহ গ্রীষ্মের শুরুতে তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তীব্র এই গরমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সে দাবদাহের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত এক হাজার জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ফরাসি জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মৃতদের বেশিরভাগই বয়োবৃদ্ধ এবং এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্যারিস ও এর আশেপাশের এলাকার মরদেহ সৎকার কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মৃতদেহ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছে ফরাসি গণমাধ্যম। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই তীব্র দাবদাহ সৃষ্টি প্রায় অসম্ভব ছিল। ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে রাতের তাপমাত্রা এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি এখন ১০০ গুণ বেড়ে গেছে।











