ঘরের টাকা ব্যাংকে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব খোকনের

| সোমবার , ২৯ জুন, ২০২৬ at ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ

মানুষের ব্যাংকের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় ‘ঘরে ঘরে নগদ টাকা পড়ে আছে’ দাবি করে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ‘বাতিলের প্রস্তাব’ দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। নোয়াখালী১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, দুই মাসের মধ্যে ওই টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংকিং খাতে ‘তারল্য বাড়বে এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে’। খবর বিডিনিউজের।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

খোকন বলেন, ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। এত ব্যাংক দরকার কী বাংলাদেশে? এত ব্যাংক দরকার নাই বাংলাদেশে! এমপি হইলেই তার একটা ব্যাংক লাগবে! এমপি হইলেই, নেতা হইলেই তার লিজিং কোম্পানি লাগবে! ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক কমায় ফেলতে হবে। ব্যাংক দরকার নাই, জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়। মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকা ব্যাংকে আনার পথ হিসেবে বড় নোট বাতিলের প্রস্তাব দেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, নগদ টাকা ঘরে এবং যারা স্বৈরাচার ছিল, টাকাটা তারা গুছায়ে রাখছে, নগদ টাকা ঘরে ফেলে চলে গেছে। ঘরে ঘরে টাকা আছে কিন্তু ব্যাংকে রাখে না মানুষ। খোকন বলেন, ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকার নোটটা আমরা ব্যান করে দিই না? দুই মাসের মধ্যে টাকা জমা দিতে বলি। লিগ্যাল করতে পারবে, যদি ট্যাক্স ফাইলে টাকাটা না থাকে, ২০ বা ২৫ পার্সেন্ট টাকা দিয়ে লিগ্যাল করবে। এতে বাজেট ঘাটতি পূরণ হবে দাবি করে তিনি বলেন, এতে দেখা যাচ্ছে আমার বাজেটের ঘাটতি পুরো ফিলাপ হয়ে যাবে, ২ লক্ষ আড়াই লক্ষ কোটি টাকাপুরা ব্যাংক নোটের টাকাটা লিগ্যাল হয়ে যাবে এবং সেটা রিইনভেস্টমেন্ট হবে। মানে ইকোনমিক হুইল ঘুরবে।

টাকা পাচারকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যত টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে, আমরা বক্তৃতায় সবাই বলেছি, শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছি, কোনো টাকা ফিরে আসে নাই। আসার সুযোগও নাই। টাকাটা সিস্টেমে ঢুকে যায়। অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মনস্তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানির একটা, অর্থের একটা ক্যারেক্টার আছে, মানি উইল মুভ হোয়্যার মানি ইজ সেফ, দ্যান মানি উইল মেক মানি। তো যেখানে মানি সেফ ফিল করবে, সেখানে মানি থাকবে। দেশে অর্থ রাখার মতো নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে খোকন বলেন, আজকে সিঙ্গাপুরে আইন নাই? সিঙ্গাপুরে টাকা যায়। দুবাইয়ে আইন নাই? কানাডায় আইন নাই? থাইল্যান্ডে আইন নাই? আইন আছে। তো আমরা সিস্টেম চেঞ্জ করি না কেন? লেটস চেঞ্জ দ্য সিস্টেম! তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে মানুষ দেশে টাকা রাখতে নিরাপদ বোধ করে এবং বিদেশ থেকেও অর্থ দেশে ফিরে আসে। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন খোকন।

তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবকদের বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করি না। আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘাটতির বাজেট বললেও একে অস্বাভাবিক মনে করছেন না বিএনপির এই সংসদ সদস্য। খোকন বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়। বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডেও দেখা যায়, প্রায় সব সময়ই ঘাটতির বাজেট হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ‘বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির’ মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধার করার মধ্যেই এই বাজেট দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা আমরা দেখছি না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরীর সড়ক-ফুটপাত ঘিরে অবৈধ অর্থ আদায়ের বড় নেটওয়ার্ক
পরবর্তী নিবন্ধটিউলিপ সিদ্দিকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১ সেপ্টেম্বর