চট্টগ্রাম জেলায় জাতীয় ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৮ লাখ ৪২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৮ জুন দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইন বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর সারাদেশের ন্যায় আগামী ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ক্যাম্পেইনে ৬–১১ মাস বয়সী ও ১২–৫৯ মাস বয়সী ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে একটি করে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলার স্থায়ী, ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬–১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) ও ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জেলার ১৫ উপজেলার ২০০ ইউনিয়নের ৬০০ ওয়ার্ড, ১৭টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮০০ অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ শিশুর মধ্যে ৬–১১ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ৯৬ হাজার ৭৯ জন এবং ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশু রয়েছে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জন।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে। শিশুর জন্মের সাথে সাথে মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেয়া যাবে না। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। কোন শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে যাতে বাদ না যায় সে দিকে সবাইকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।
আগামী ২৮জুন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৫ উপজেলার উপজেলাগুলোর ১৭টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ৫২জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১৫৮ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৪৮০ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ৭২০ জন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, ১৯৬জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, ৯ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক, ১৪ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, ৫২৯ জন সিএইচসিপি ও ৮৩ জন স্যাকমো জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে নিয়োজিত থাকবে। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ কর্মসুচি সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৬–৫৯ মাস বয়সী সকল শিশু যাতে ওইদিন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাসসুল পায়, সে লক্ষ্যে প্রচার–প্রচারণাসহ সর্বত্র মাইকিং করা হবে। ভ্রমণে থাকাকালীন সময়েও রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফেরী ঘাট ও লঞ্চ ঘাটে অবস্থিত টিকা কেন্দ্রসহ যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রচার–প্রচারণা অব্যাহত রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, আনসার–ভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলো কাজ করবে। সরকারি কর্মকর্তা, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এ কর্মসূচি সফল হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মো. নুরুল হায়দার শামীম, এমওসিএস ডা. শিব্বির আহমেদ প্রিন্স ও মেডিকেল অফিসার ডা. ঈসমাইল হোসেন প্রমুখ।











