পানির সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রশংসনীয় উদ্যোগ

| মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

গাছপালা কাটাসহ নানাভাবে প্রকৃতি নষ্ট করায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। এভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটলে একটা সময় নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং পানির অপচয় রোধ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে সকলে সচেতন হলে সুপেয় পানির সংকট অনেকটা কাটবে বলে ধারণা। তাঁরা বলেন, দূষিত পানিতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে। বিশ্বে প্রতি চার জন মানুষের মধ্যে এক জন নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে। দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ দেশে নিরাপদ পানি পৌঁছানো গেছে ৫৯ শতাংশ মানুষের কাছে। দুর্গম এলাকা, গ্রামাঞ্চল ও শহরের বস্তি এলাকায় নিরাপদ পানি সহজে পাওয়া যায় না। পানিতে জীবাণু, আর্সেনিক ও লবণাক্ততা রয়েছে। এ অবস্থায় পানি সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম ওয়াসা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দৈনিক আজাদীতে গত ২১ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীতে এখন প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার পানির সংকট রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ কোটি থেকে ৫১ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প১ ও ২ থেকে উৎপাদন হয় ২৮ কোটি লিটার। এছাড়া মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে প্রায় ৪৫ কোটি লিটার উৎপাদন হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যমতে, গ্রীষ্ম এবং রমজানের মতো তীব্র চাহিদার মৌসুমে শহরের দৈনিক চাহিদা থাকে প্রায় ৬০ কোটি লিটার। এ সময় উৎপাদন কমে ৪৫ কোটি লিটারে চলে আসে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পতেঙ্গা এলাকার ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। বর্তমানে পতেঙ্গাসহ নগরীর যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে সেসব এলাকায় দ্রুত পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা। নগরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। তিনি আজাদীকে জানান, নগরবাসীর পানির সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে নগরীতে ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এই ৩০টির কাজ শেষ হলে আরো ১৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। আগামী ৪৫ মাসের মধ্যে এই ৪৫টি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কয়েকটি নলকূপের পানি উৎপাদনের টেস্টিং চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৪৫টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে নগরীর উঁচু এলাকায় পানি পৌঁছানোর উদ্যোগ চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি প্রশংসনীয় দিক। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীতে পানির সংকট কিছুটা মিটবে বলে আশা করা যায়। তখন নগরীর সর্বত্র সমানভাবে পানি পাওয়া যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা বলেন, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। খালবিলনদী দখল ও দূষণ, রাসায়নিক ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার, উপকূলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে দেশে নিরাপদ পানির উৎস সংকুচিত হয়েছে। সারফেস ওয়াটারের বদলে মাটির নিচের পানির ওপর বিপজ্জনক নির্ভরতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে নিরাপদ পানির সংকটকে কাজে লাগিয়ে পানির বাণিজ্যিকীকরণ। ফলে চড়া মূল্যে বোতল কিংবা জারের পানি কিনে খাওয়া এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে পানিকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে। দেশের সব মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহের দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকেই।

পানি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন যদি একজন ব্যক্তি মাত্র ১ লিটার করে পানি বাঁচায়, তাহলে বছরে ৩৪৫ বিলিয়ন লিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিদেশের হোটেলগুলোতে পানির চাপ ০.% নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি আমরা পানির প্রবাহ ৫০% কমিয়ে দেই, তাহলে বিশাল পরিমাণে অপচয় রোধ করা সম্ভব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে