কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর স্কুলছাত্র সাঈদ হোসাইন মারুফকে (১১) জীবিত ফেরত পেতে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এদিকে শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানা গেছে, গত ১৭ জুন বুধবার সকাল ৭টার দিকে মারুফ তার খালার বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পরে পেকুয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়–স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে কোথাও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
অপহৃত সাঈদ হোসাইন মারুফ মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার সুবিধার্থে সে পেকুয়ার তেলিয়াখাটা এলাকায় খালার বাড়িতে থাকতো।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মারুফের বাবার মোবাইল ফোনে কল আসে। কলকারী নিজেকে অপহরণকারী পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে জীবিত ফেরত পেতে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একই সঙ্গে টাকা না দিলে মারুফের ক্ষতি করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।
মারুফের আত্মীয় আদিল বলেন, ‘সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে মারুফ বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বাড়িতে না ফেরায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত ৯টার দিকে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে মারুফের বাবার ফোনে কল করে অপহরণকারীরা ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা টাকা না দিলে মারুফকে জীবিত ফেরত দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিলেও ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে।’
এদিকে মারুফের মা–বাবা ও স্বজনরা প্রশাসনের কাছে শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পেকুয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহৃত শিশুর অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
অপহরণকারীদের ব্যবহৃত নম্বর ও যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, স্কুলছাত্র
অপহরণের ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে দ্রুত অপহৃত মারুফকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং তার পরিবার এই দুঃসহ অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে।












