কানাডার টরন্টোয় গত ১২ জুন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের ‘সির সির’ গানে পারফর্ম করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয়। জন্ম তাঁর শ্রীমঙ্গল। বাবা সন্তোষ দেব, মা মিতা দেব। ধীরেন্দ্রনাথ দেবের নাতি। চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন শৈশবের বড় একটি অংশ। এরপর পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই শিল্পী বাংলা সংগীতের উপাদানকে ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন। সংগীতের লড়াইয়ে তিনি বৈশ্বিক। গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে বিচরণ থাকলেও নিজের শেকড়ের প্রতি তাঁর টান প্রবল। এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫ এর থিম সং–এও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। বলিউডের শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন সঞ্জয়। কাজ করেছেন হাবিব ওয়াহিদের সাথেও।
সঞ্জয় দেবের প্রযোজনায় তৈরি গানগুলো ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে। তাঁর কাজের মধ্যে ‘একলা দুনিয়া’, ‘ভুলে যাব’ এবং ‘আড়ালে হারালে’ উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে আরও পরিচিত করেছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি পরেছিলেন বিশেষ এক জ্যাকেট। সেই পোশাকেই ফুটিয়ে তোলেন বাংলাদেশের একাধিক জাতীয় প্রতীক। তাঁর জ্যাকেটের ডান হাতার অংশে এমব্রয়ডারিতে দেখা যায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সবুজ–লাল জাতীয় পতাকার নকশা। শুধু পোশাকেই নয়, পারফরম্যান্স চলাকালে বারবার নিজের স্লিভের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতীক দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
উদ্বোধনের মঞ্চে এসেই নোরা ফাতেহির পাশে দারুণভাবে জ্বলজ্বল করলেন বাংলাদেশের ছেলে সঞ্জয়। কালো প্যান্টের সঙ্গে লাল ফুলহাতার জ্যাকেট পরে গাইলেন ‘সির সির।’
ফিফার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার খবর প্রকাশের পর অনেকেই তাঁকে বাংলাদেশের জার্সি পরে মঞ্চে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন একটু ভিন্নভাবে, আরও নান্দনিকভাবে দেশকে তুলে ধরতে। তিনি সাথে সাথে টিমের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেন। কীভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা যায়। তখন তার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ছায়া কুমারের সঙ্গে মিলে এই জ্যাকেটের নকশা তৈরি করেন। জ্যাকেটের প্রতিটি মোটিফের পেছনেই ছিল একটি বার্তা। বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের শক্তি ও সাহসের প্রতীক। শাপলা বহন করে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়। আর জাতীয় পতাকার লাল–সবুজ রং তুলে ধরে শান্তি, সৌহার্দ্য ও পরিচয়ের গল্প। তবে মঞ্চে বারবার হাতার নকশা দর্শকদের দেখানোর বিষয়টি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না।
বাংলাদেশকে উপস্থাপনের বিষয়টা সঞ্জয়ের মাথায় ছিল। তিনি নিজে থেকেই কাজটি করেছেন। মঞ্চে ওঠার পর তাঁর মনে হয়েছে, পুরো বাংলাদেশ সাথে আছে। অনুষ্ঠানের আগে যখনই জ্যাকেটটি পরতেন, বুকের ভেতর কেমন জানি করতো তাঁর। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার পর সেই অনুভূতি আরও তীব্র হয়। সঞ্জয় যদিও মার্কিন নাগরিক, কিন্তু শেকড়ের কথা ভুলে যান নি। মনে প্রাণে ধারণ করেন জন্মভূমিকে, প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে।








