জনজীবনে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ এখন সময়ের দাবি

ডেইজী মউদুদ | শনিবার , ১৩ জুন, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

জনজীবনে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন সমপ্রতি ‘নারীপক্ষ’ আয়োজিত এক কর্মশালায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারীরা। নারীপক্ষের মেন্টর, মেন্টি আর রাজনৈতিক নেত্রীদের অংশগ্রহণে সেদিনের কর্মশালা মুহুর্তেই পরিণত হয় নবীন প্রবীণ নারীদের এক স্বতঃস্ফূর্ত মিলনমেলায়। শুরুতেই সংক্ষিপ্ত প্রারম্ভিক বক্তব্যে নারীপক্ষের প্রকল্প ম্যানেজার নাছিমা আক্তার এই আয়োজনের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি ছাড়াও নারীপক্ষের মৌসুমী আর শায়লা ছিলেন পুরো আয়োজনের কর্ণধার। শুরুতেই পরিচিতি পর্বেই অনুষ্ঠানের নান্দনিকতা আর নতুনত্ব আনয়ন আমাদের চমকে দেয়। গতানুগতিক পরিচয় পর্ব সেখানে অনুপস্থিত। এরা অংশগ্রহণকারীদের মাঝ থেকেই বন্ধু সিলেকশনের মাধ্যমে দুজন দুজন করে জুটি বেঁধে দেন। ফলে বেশির ভাগ অজানা অচেনা বন্ধুর সাথে সেদিন মিতালী করতে হলো তাৎক্ষণিক পরিচয়ে। এবং আরো মজার বিষয় হলো মাত্র কয়েক মিনিটের মাঝেই নব এই বন্ধু জুটি পরস্পর পরস্পরকে জেনে নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও চমকপ্রদভাবে একে অপরের পরিচয় প্রদান করে। উপস্থাপন করে। সেদিন আমি বন্ধু হিসেবে পেয়ছিলাম সদ্য মাস্টার্স পাস করা উক্রানু মারমাকে। উক্রানু এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান থেকে। হাসিখুশি আর প্রাণচঞ্চল এই তরুণী। সে নারীপক্ষের একজন মেন্টি। এই স্বল্প সময়ে আমি তার জীবনের গল্প শুনে একেবারে হতবাক হয়ে যাই। একজন পাহাড়ি, ফলে তার রয়েছে ভাষাগত ভিন্নতা, চেহারায়ও কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয়। অকপট ধী শক্তি আর দৃঢ়তা দেখেছি তার কথা বলার ভঙ্গীত। আপাদমস্তক আমার হয়ে আমাকেই উপস্থাপন করলো সে। উক্রানুর জন্ম কৃষক পরিবারে। মাবাবা দুজনেই কৃষি কাজ করেন। গরু ছাগল হাঁসমুরগী লালন পালন করেই জীবিকা নির্বাহ করে। পরিবার থেকেই উক্রানুই একমাত্র মেয়ে, যে কিনা মাস্টার্স করেছে। বান্দরবান সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন এবং মাস্টার্স করেও উক্রানু এখনো গরু চড়ায়, ক্ষেতে মাঠে কাজ করে। তবে মাঝেমাঝে হয়তো তার কষ্ট লাগে, কারণ যারা তার মতো উচ্চশিক্ষিত, তারা কেউই এই কাজ করেনা,’ পাছে লোকে কিছু বলে’ এই বোধ তার মাঝে আসলেও সে তা অদম্য মনোবল আর দৃঢ়তা দিয়ে কাটিয়ে উঠতে পারে। এখানেই সে বিজয়িনী। এই ধরনের বেশ কয়েকটি গল্প সেদিনের কর্মশালাকে সমৃদ্ধ করে। রাজনীতির ময়দানে চষে বেড়ানো হেলেন, যখন বলে এই প্ল্যাটফর্মে এসে আমার অত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। ক্যারিয়ার কীভাবে বিল্ড আপ করবো, যে কোন সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করবো, সেসব আইডিয়া এই প্ল্যাটফর্মই শিখিয়ে দিচ্ছে অনেকখানি। মেথুই খিয়াংই একমাত্র নারী, যে কি না এই সমপ্রদায় থেকে প্রথম উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। মেথুই কীভাবে সমস্ত কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস আর প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে অনেকটা আধুনিক সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই গল্প শুনলাম একেবারে অবাকচিত্তে। আর নারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও তাদের বঞ্চনা আর কষ্টের কথা শেয়ার করেন যার যার অবস্থান থেকে। জেসমিন সুলতানা পারু তার বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা সংক্ষিপ্ত আকারে বলেন নবীন নারীদের জন্য। কঙবাজারএর এক উন্নয়ন কর্মী যখন কোন যানবাহন না পেয়ে ট্রাকে চড়ে ঘরে ফেরার গল্প করছিলেন, তখন হাসতে হাসতে এক মজার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মূলত সেদিনের কর্মশালায় বিষয়টি নানা গুরুত্বপূর্ণ কথা উঠে আসে। এসডিজির ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার ১৬ নং লক্ষ্যটি হলো শান্তি, ন্যায়বিচার, ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান। এতে টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ। এই লক্ষ্যগুলোর ডিটেইল কর্মশালায় অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। বিভাগীয় এই কর্মশালায় কুমিল্লা, কঙবাজার, চকরিয়া,পার্বত্য এলাকার নারীরাসহ নগর ও মফস্বলের নবীন প্রবীণ নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী মেলা
পরবর্তী নিবন্ধনীরবতার দেয়াল ভেঙে দাও