‘জনজীবনে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ ‘ শীর্ষক কর্মশালায় রিসোর্স পারসনরা সিনিয়র পার্টিসিপ্যান্টদের কাছে জানতে চাইলেন, কে কে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চান? একজন ছাড়া সবাই ছিলেন নিশ্চুপ। একজন যিনি আগ্রহী তিনি কিন্তু এই প্রজন্মেরই প্রতিনিধি, যদিও তিনি একজন মেন্টর। পরে উনারা রাজনীতিতে এই অনীহা আর অনাগ্রহের কারণ জানতে চাইলে অনাগ্রহীরা বলেন, নারীদের পদ–পদবী দেয়না পুরুষরা। জাস্ট নারী হিসেবে রাখা হলে দায়িত্ব আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় রাখা হয়না। আর যেখানে রাজনৈতিক শিষ্টাচার নেই, সেখানে নারীরা কীভাবে রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হবেন? তবে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই খুবই আগ্রহী, কারণ তারা যে কোন চ্যালেঞ্জ নিতে এক পায়ে খাড়া। তারা জেন জি! কেউ বা এনসিপি কেউ বা বৈষম্য বিরোধী, কেউবা ছাত্র ইউনিয়ন, কেউ নারীশক্তি কেউবা জুলাইযোদ্ধা। মূল কথা হলো, একটি দেশ চালাবে কারা? প্রথমতঃ রাজনীতিবিদ, দ্বিতীয়ত আমলারা, যারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন। আচ্ছা এখন প্রশ্ন হলো রাজনীতিতে একজন ব্যক্তি কীভাবে যুক্ত হবেন? প্রথমতঃ একজন সচেতন দেশপ্রেমিককে রাজনীতিতে আসতে হবে। আর এর চর্চা করতে হবে ছাত্রজীবন থেকেই। আমরা দেখেছি এই উপমহাদেশে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি, সমাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে যারা অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা, সংগ্রামের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে এসে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
এই উপমহাদেশে নারী রাজনীতিতে আসা নতুন ঘটনা না। আমরা ইসলামী শাসনব্যবস্থায়ও নারীদের যুদ্ধে অংশ নিতে দেখেছি। মোগল ইতিহাসেও ঘোড়ার পিঠে চড়ে সুলতানা রাজিয়াকে দেখেছি ঢাল তলোয়ার হাতে যুদ্ধের পোশাকে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। আর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বীরকন্যা প্রীতিলতার আত্মাহুতির ঘটনায় রাজনৈতিক জগতে, বিশেষ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায় নিজের জীবন দিয়ে দেয়ার কাহিনী তো কালের সাক্ষী হয়েই থাকবে কালে কালে, যুগে যুগে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা কী দেখছি? সুস্থ মানসিকতা, শিক্ষিত, মার্জিত রুচি সম্পন্ন মানুষ তো রাজনীতিতে আসছেন ই না। এর প্রধান কারণ নারীদেরকে যোগ্য মনে করে না। সম্মান তো করেই না, বরঞ্চ গোচরে অগোচরে নারী এই জগতে হেনস্তার শিকার হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে নারীকে রাখা হয়না। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও কোন অধিকার নেই নারীর। ফলে উন্নত রুচি আর উচ্চ শিক্ষিত নারী রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ–ই করেন না। কিন্তু কোন বিশাল জনসভায় রাজনীতির মাঠ ভর্তি নারী দেখানোর জন্য তৃণমূল আর বস্তিবাসী নারীদেরকে অতি সামান্য টাকা আর একবেলা খাবার দিল কি দিল না, সেই খবরও নেতারা রাখেন না। আমাদের সংবিধানে ৩৩% নারী থাকার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকারি দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেত্রী বলেন, একটা নেশা আছে বলেই, এখনো রাজনীতিতে আমি যুক্ত। কিন্তু দলে তেমন উৎসাহ আর সম্মান পাইনা। আর একজন নবীন জেন জি নেত্রী বলেন, কি বলবো, যাদের সাথে জুলাই–এর আন্দোলনে ছিলাম, তারা ইনবক্সে যা আজেবাজে কমেন্ট লিখে, শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। তবে এত অপমান আর অসম্মানের মাঝেও বসে নেই তারা। রাজনীতি নিয়ে ভাবছে। অভিজ্ঞ নারীরাও আছে, আছে নবীন প্রজন্মও। জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভাবতে হবে, কীভাবে দেশের অর্ধেক নারী সমাজকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা যায়। লোক দেখানো নয়, সক্রিয়ভাবেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়ে আসতে হবে নারী রাজনীতিবিদদেরকে। আর অবশ্যই যোগ্য, মেধাবী এবং সৎ, নিষ্ঠাবান, আর পরিশ্রমী নারীদের বের করে আনতে হবে।












