‘দি চিটাগং কো–অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি.’- এর ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্যকে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করে পত্র জারি করেছিলেন সম্পাদক। সমিতির উপ–আইনমূলে উক্ত পত্রটি সভাপতি কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হলে এর বিরুদ্ধে সম্পাদক জেলা সমবায় কার্যালয়, চট্টগ্রাম বরাবর একটি বিরোধ মামলা করেন। গত ১৯ জানুয়ারি আরবিট্রেটর কর্তৃক উক্ত মামলাটি খারিজ হয়ে গেলে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগীয় সমবায় দপ্তর, চট্টগ্রামের উপ–নিবন্ধক (বিচার) বরাবর আপিল দায়ের করেন সম্পাদক। শুনানি শেষে গত ১৪ মে সেটিও (আপিল) খারিজ করে দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত সমিতি আইন, বিধি ও সমিতির উপ–আইন অনুযায়ী যথাযথ ও আইনানুগ না হওয়ায় উপ–নিবন্ধক (বিচার) আপিলটি খারিজ করে দেন। এর ফলে জেলা সমবায় কার্যালয়, চট্টগ্রাম কর্তৃক ঘোষিত খারিজ আদেশটি যথাযথ ও আইনানুগ হওয়ায় তা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় সমবায় দপ্তর।
সমবায় অফিসসূত্র জানায়, গত বছরের ৬ এপ্রিল সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে ৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করে পত্র জারি করেন সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি ওয়াহিদ মালেক সমিতির উপ–আইনের ১৬(৩) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতা বলে উক্ত পত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন। মূলত উক্ত বিষয়টি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সমবায় অফিস জানায়, শুনানিতে দেখা যায় যে, কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করে সম্পাদক যে পত্র জারি করেছেন উক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা কমিটির সভার কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কিনা বা সিদ্ধান্ত থাকলে উক্ত সিদ্ধান্তের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হননি তিনি (সম্পাদক)। যেহেতু সমিতির উপ–আইনে সম্পাদককে এরূপ একক সিদ্ধান্ত প্রদানের এখতিয়ার প্রদান করা হয়নি, সেহেতু সম্পাদক কর্তৃক প্রদত্ত জারিকৃত পত্রটি সভাপতি কর্তৃক বাতিল ঘোষণা বেআইনি ও এখতিয়ার বহির্ভূত মর্মে প্রতীয়মান হয়নি। সমবায় অফিস কর্তৃক আপিল খারিজের আদেশে বলা হয়, আপিল আবেদনের অপর দফায় সম্পাদক উল্লেখ করেন যে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর নিজ স্বাক্ষরে নোটিশ প্রদান করে ২৫ সেপ্টেম্বরের সভা অনুষ্ঠান সভাপতির ক্ষমতা বহির্ভূত কার্যক্রম। এ বিষয়ে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোসাইটির উপ–আইনের ১৬(৬) ও ১৬(৭) (গ) মোতাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পাদককে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে সববায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ এর ৪৮ বিধি এবং উপ–আইনের ১৬(৩) ধারা অনুযায়ী সমিতির ব্যবস্থাপনায় সভাপতির ক্ষমতা প্রয়োগ করার বিষয়ে বর্ণিত আছে। ফলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সভাপতি নিজ স্বাক্ষরে নোটিশ প্রেরণ করে সভা আহ্বান করা সভাপতির ক্ষমতা বহির্ভূত কার্যক্রম মর্মে উল্লেখিত অভিযোগটি যথাযথ ও আইনানুগ নয়।
সমবায় অফিসসূত্র জানায়, সোসাইটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন সভাপতির কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি ও তার একক সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জেলা সমবায় অফিসারের কার্যালয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিরোধ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এ মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি অভিযোগটি খারিজ করে দিয়ে রায় ঘোষণা করেন জেলা সমবায় কার্যালয়। পরবর্তীতে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে সম্পাদক জেলা সমবায় কার্যালয়কে ১ নম্বর ও সোসাইটির সভাপতিকে ২ নম্বর বিবাদী করে বিভাগীয় সমবায় দপ্তরে, চট্টগ্রামে আপিল মামলা দায়ের করেন সম্পাদক।
উল্লেখ্য, এর আগে সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সোসাইটির সদস্য এস এম জমির উদ্দিনের দায়ের করা বিরোধ মামলাও খারিজ করে দিয়েছিলেন জেলা সমবায় কার্যালয়। সেটির বিরুদ্ধে বিভাগীয় সমবায় দপ্তর, চট্টগ্রামের উপ–নিবন্ধক (বিচার) বরাবর সম্পাদকের ন্যায় তিনিও আপিল মামলা দায়ের করেন। গত ১৪ মে এস এম জমির উদ্দিনের আপীল মামলাটিও খারিজ করে দিয়েছেন সমবায় দপ্তরের উপ–নিবন্ধক (বিচার)।












