সীতাকুণ্ড সলিমপুর ১০ নম্বর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ি জনপদের গহীন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সড়ক নির্মাণকাজ আরম্ভ করেছে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২৬ ইসিবি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে এ সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। দুর্গম পাহাড়ি এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় কার্যকরী করতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদারে প্রাথমিকভাবে ৪টি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকার পূর্ব পাশের পাহাড়ি অঞ্চলে নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় করেন ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ।
তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ি ছিন্নমূল এলাকা থেকে একেবারে আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির সাইড দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। যাতে করে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো ভাল হয়। তার পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে আরো একটি সড়ক নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম দুর্গম ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। পাহাড় ও বনাঞ্চল বেষ্টিত এ জনপদে কয়েক দশক ধরে এখানে সন্ত্রাসী অবৈধ দখল, ভূমি বাণিজ্য কার্যক্রমের অভিযোগ প্রায় সময় শুনা যায়।
এদিকে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব অভিযান পরিচালনা করতে গেলে ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূইয়া নির্মমভাবে নিহত হন।
এ ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চালান। উক্ত অভিযানের পর আলিনগরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। কিন্তু ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগরে যৌথবাহিনীর স্থাপিত একটি ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
এ সময় র্যাব ও পুলিশের পাল্টা গুলিতে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। হামলার আগে তারা নির্মাণাধীন একটি নিরাপত্তা ক্যাম্প বুলডোজার-এক্সকাভেটর দিয়ে ভেঙে দেয় এবং যাতায়াতের সড়ক কেটে ফেলে। যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।
এদিকে সচেন মহল মনে করছেন জঙ্গল সলিমপুরের এ সড়ক নির্মাণ হলে প্রশাসনিক তৎপরতা আরো বৃদ্ধি পাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে।










