পাহাড়ে বেগুনি ভুট্টায় সম্ভাবনা

লোকসান কাটিয়ে সফল দীঘিনালার কৃষক রসু

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি | শনিবার , ৬ জুন, ২০২৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার পাহাড়ে দিন দিন বেগুনি ও হলুদ ভুট্টার চাষের ব্যাপকতা বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে ‘পার্পল সুইট কন’ বা বেগুনি ভুট্টা। উপজেলার মাইনী ব্রিজ এলাকার কৃষক রসু চাকমা এ জাতের ভুট্টা চাষ করে অতীতের লোকসান কাটিয়ে এখন সফলতার মুখ দেখছেন। তার দেখাদেখি এলাকার বিভিন্ন স্থানে কৃষকরাও এ ধরনের ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

পাহাড়ি অঞ্চলে ভুট্টা একটি জনপ্রিয় খাদ্য। খাগড়াছড়িতে ভুট্টার চাহিদাও ব্যাপক। স্থানীয় কৃষকদের জন্য ভুট্টা চাষ এখন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কৃষক রসু চাকমা কয়েক বছর আগে ভুট্টা চাষ শুরু করেন। তবে শুরুতেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাকে। প্রায় ২০ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করে তিনি ৫ লাখ টাকার বেশি লোকসানের শিকার হন। কিন্তু হতাশ না হয়ে নতুন পরিকল্পনায় আবারও চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। নতুন জাতের ‘পার্পল সুইট কন’ চাষে দীর্ঘ চেষ্টা ও পরিশ্রমের পর ২০২৫ সালে সফলতার মুখ দেখেন রসু চাকমা।

এরপর ২০২৬ সালে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বেগুনি ও হলুদ ভুট্টার চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দীঘিনালা উপজেলার মাইনী ব্রিজ এলাকায় মাত্র ৪০ শতক জমিতে তিনি এ ভুট্টার আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি বেগুনি ভুট্টা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে এ চাষে ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

কৃষক রসু চাকমা জানান, পার্পল সুইট কনের বীজ বাংলাদেশে অনেক জায়গায় খুঁজেও পাইনি। এমনকি অনলাইনেও না পেয়ে পরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে একজনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে আনি। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করি।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, রসু চাকমার বেগুনি ভুট্টা চাষ কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় পার্পল সুইট কনের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এতে কৃষক লাভবান হয়েছেন। এটি উন্নত বিদেশি জাতের ভুট্টা এবং স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহেশখালীর ছনখোলা পাড়ায় কলা চাষি আকবরের বাজিমাত
পরবর্তী নিবন্ধনূর জাহান বেগমের মৃত্যু ও বৃদ্ধাশ্রমের প্রাসঙ্গিকতা