চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাপ্তাহিক গণশুনানিতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে দেশে জমিজমা নিয়ে পরিবারের উপর হামলা ও হয়রানিসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন ৬ প্রবাসী। গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে ৬ প্রবাসীর তুলে ধরা অভিযোগুলো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রবাসীদের পাশাপাশি গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের নানা প্রান্ত থেকে সশরীরে হাজির হয়েছেন ২৫ জন ব্যক্তি। চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও জীবিকার সংকটের মতো নানা সমস্যার কথা তারা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেছেন। জেলা প্রশাসকও তাদের এসব আবেদন সরাসরি শুনে আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, গণ শুনানিতে দুবাই প্রবাসী আবুল খালেক অভিযোগ করেন, পটিয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা ছিনতাই, নির্যাতন ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তার স্ত্রী আদালতে মামলা করেছেন। আবুধাবি প্রবাসী রাজু মুহুরী বলেন, জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসাও নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও সালিশ বৈঠকের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ হারুন বোয়ালখালীতে তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেন। আবুধাবি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাটহাজারীতে তার সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, নির্মাণকাজে বাধা এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে আবুধাবি প্রবাসী মোরশেদ আলম বিদেশে উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিদেশের আদালত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশে চলে আসায় তিনি এখনো টাকা ফেরত পাননি। কাতারপ্রবাসী নুরুল হাকিম তালেকও তার এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রশাসনের সহযোগিতা চান। প্রবাসীদের প্রতিটি অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন থেকে আরো জানানো হয়, প্রবাসীদের নিয়ে গণশুনানি শেষে শুরু হয় সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে গণশুনানি। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর এলাকা থেকে আসা ২৫ জন সেবাপ্রত্যাশী তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকট, চিকিৎসাসহ নানা সমস্যা তুলে ধরেন। গণশুনানিতে উঠে আসে সংগ্রামমুখর জীবনের নানা গল্প। জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার চেইনম্যান মো. ফোরকানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। স্বামীর মৃত্যু ও চিকিৎসা ব্যয় তাদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার কর্মচারী মোহাম্মদ আলী তার ছোট ছেলে আরিয়ানের জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যয়ভার বহনে আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। একইভাবে চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় মো. তানভীর হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য সহায়তা চান। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত কানু মজুমদার, মানসিক সমস্যায় ভোগা জান্নাতুল আক্তার, মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া ফি পরিশোধে হিমশিম খাওয়া ক্রীড়া সংগঠক কামাল আহমেদ এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রত্যাশী আবু রায়হানসহ আরও কয়েকজন তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শুনানি শেষে গুরুতর অসুস্থ আটজন ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি বিভিন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আবেদনকারীদের কাছে অগ্রগতি ও ফলাফল জানাতেও কর্মকর্তাদের বলেন জেলা প্রশাসক।












