প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে নানা অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে। গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে দুজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি–১ জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্থান পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে এ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা দ্রুত কার্যকর করা হবে।’
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্জ্য অপসারণের ব্যর্থতার দায়ে দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে যায়। শুক্রবার যেখানে বর্জ্যরে স্তূপ ছিল, সেখানে ধুয়েমুছে সাফ করেছেন দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বর্জ্য অপসারণসহ অনেক এলাকায় সড়ক ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দুর্গন্ধমুক্ত করা হয়। যেসব এলাকায় একদিন আগেও বর্জ্য পড়ে ছিল, সেসব স্থানেও জোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অনেক সময় দেখা যায়, ভালো উদ্যোগ শুরু হলেও দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার কারণে তা মাঝপথেই ভেস্তে যায়। তাই এই ধরনের কাজকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ স্কুল–কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে ভাবতে শেখে। স্বাস্থ্যসেবা কেবল একটি পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ড নয়– এটি দারিদ্র্য হ্রাস, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত। শহরের বস্তিবাসী বা নিম্ন–আয়ের মানুষ, যারা প্রতিদিন সামান্য সঞ্চয়ে টিকে থাকেন তাদের জন্য এই সেবা বিশেষ কাজে আসবে– তা নিশ্চিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি শহর, নগর ও জনবহুল এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এখন একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নালা–নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেগুলো ময়লা–আবর্জনা, প্লাস্টিক ও নানা প্রকার বর্জ্যে ভরে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশনের কোনো উপায় না থাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যানজট তৈরি হয়, এমনকি স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়ে। জলাবদ্ধ পানিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে রাস্তার মান দ্রুত নষ্ট হয়ে গর্ত সৃষ্টি করে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি এভাবে জমে থাকা পানিই মশার প্রজননের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে, যার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগে। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, নিয়মিত নালা–নর্দমা পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নগর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং জনগণের জন্য স্বচ্ছ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
বলা জরুরি যে, জনসাধারণের অসচেতন ও বেপরোয়া ব্যবহারে দিন দিন আমাদের কর্ণফুলী নদীও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দখল ও ভরাটের করাল গ্রাসে এই নদীর মতো অনেক নদী মরে গেছে। নদী বাঁচলে জীবন বাঁচবে। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই নদীকে বাঁচাতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই, শুধু সিটি করপোরেশন নয়, জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতিটি নাগরিক পালন করুক তাঁর দায়িত্ব।








